চিকিৎসা শেষে আবার কারাগারে ব্রাজিলের বলসোনারো

রায়ে বিচারকরা স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গৃহবন্দী করার জন্য বলসোনারোর আইনজীবীদের করা আবেদন নাকচ করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাইর বলসোনারো
জাইর বলসোনারো |ফাইল ছবি

অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দেয়া ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ পুনরায় শুরু করতে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো বৃহস্পতিবার একটি হাসপাতাল ছেড়ে আবার কারাগারে ফিরেছেন।

ব্রাসিলিয়া থেকে এএফপি জানায়, দিনের শুরুতে প্রকাশিত এক রায়ে বিচারকরা স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গৃহবন্দী করার জন্য বলসোনারোর আইনজীবীদের করা আবেদন নাকচ করেন।

৭০ বছর বয়সী বোলসোনারো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ সময় তার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে বারবার দেখা দেয়া হেঁচকির চিকিৎসায় আরেকটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

গৃহবন্দীর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেয়া রায়ে বিচারক আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস বলেন, ‘বিবাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী জাইর মেসিয়াস বলসোনারোর স্বাস্থ্যের কোনো অবনতি ঘটেনি।’

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক সমাবেশে পেটে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তাকে একাধিক বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রাসিলিয়ার ডিএফ স্টার হাসপাতাল থেকে পুলিশ হেফাজতে বের হতে দেখা যায় বলসোনারোকে। সেখান থেকে তাকে ফেডারেল পুলিশের একটি স্থাপনায় নেয়া হয়, যেখানে একটি ছোট কক্ষে তিনি তার সাজা ভোগ করছেন।

গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করে।

প্রসিকিউটররা জানান, লুলাকে হত্যার পরিকল্পনাসহ ওই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়, কারণ এতে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র বলসোনারো এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘ডাইনি শিকার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালে তাকে আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখতেই এটি করা হচ্ছে।

গত নভেম্বর তার কারাদণ্ড শুরু হওয়ার কিছুদিন আগ পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দী ছিলেন।

আদালত যাকে পালানোর চেষ্টা হিসেবে দেখেছে, সেই ঘটনায় তিনি নিজের গোড়ালিতে পরা নজরদারি ব্রেসলেটে সোল্ডারিং আয়রন ব্যবহার করার পর তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।

বলসোনারো বলেন, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত সন্দেহপ্রবণতার ফলেই তিনি ওই কাজ করেছিলেন।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট তার দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ করে দেয়।

তবে রক্ষণশীল-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে তার সমর্থকেরা তুলনামূলকভাবে বেশি সাফল্য পেয়েছেন। তারা এমন একটি আইন পাস করেছে, যা বোলসোনারোর সাজা কমিয়ে মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি করতে পারে।

লুলা ওই আইনে ভেটো দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তবে শেষ সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের হাতে, চাইলে তারা তার ভেটো অতিক্রম করতে পারে।

বলসোনারোর দণ্ডাদেশ ২০২৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে।

ফেরার সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এই ডানপন্থী নেতা ব্রাজিলের রক্ষণশীলদের নেতৃত্বে নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী সিনেটর পুত্র ফ্লাভিও বোলসোনারোকে সামনে এনেছেন।

নির্বাচনে জয় পেতে হলে তরুণ বলসোনারোকে যেমন অন্য রক্ষণশীল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবেলা করতে হবে, তেমনি ৮০ বছর বয়সী লুলাকেও, যিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।