ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো, খরচ ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক যুগান্তকারী ওষুধ রোগ পুরোপুরি নিরাময়ের পরিবর্তে রোগীর আয়ু বাড়াতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে এসব চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। গবেষকেরা বেশ কয়েকটি নতুন ওষুধের সফলতা তুলে ধরলেও এসব চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনেক যুগান্তকারী ওষুধ রোগ পুরোপুরি নিরাময়ের পরিবর্তে রোগীর আয়ু বাড়াতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে এসব চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় রোগী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক অগ্রগতির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে রেভল্যুশন মেডিসিন্সের অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের পরীক্ষামূলক ওষুধ। শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীর বেঁচে থাকার সময় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। গবেষণায় রোগীদের গড় আয়ু ৬ দশমিক ৭ মাস থেকে বেড়ে ১৩ দশমিক ২ মাসে উন্নীত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন ওষুধটি যে জিনগত পরিবর্তনকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে, তা অন্যান্য ক্যানসারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলি লিলির একটি পরীক্ষামূলক ওজন নিয়ন্ত্রণের ওষুধও আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এটি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বেরিয়াট্রিক সার্জারির সমপর্যায়ের কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং কয়েক দশকের গবেষণা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিপুল বিনিয়োগের ফল। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিক ইমানুয়েল বলেন, বর্তমান সাফল্য দীর্ঘদিনের গবেষণার ধারাবাহিক ফলাফল।

তবে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে এর উচ্চ ব্যয়। বিশেষ করে জিন থেরাপিভিত্তিক চিকিৎসার খরচ লাখ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে। এছাড়া কিছু ওষুধের সুফল ধরে রাখতে আজীবন ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর ও সাশ্রয়ী সমাধান হলো রোগ প্রতিরোধে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। যদিও এ ক্ষেত্রে অনেক দেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

তবু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরি করেছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কোষ সম্পাদনা (সেল এডিটিং), জিন-এডিটিং থেরাপি এবং কিছু ক্যানসার ও ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু রোগ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং তা সম্পূর্ণ নির্মূল বা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় উদ্ভাবন।

সূত্র: অ্যাক্সিওস