যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার বাণিজ্য চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধান আলোচক ডমিনিক লেব্লাঙ্ক। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নতুন করে আরোপ করা শুল্ক কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত মধ্যরাতের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এ কথা জানান।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো কাজ বাকি আছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা কাজ চালিয়ে যাব। আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’
কয়েক মাস ধরে চলা বাণিজ্য উত্তেজনার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর বুধবার থেকে নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
তবে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে শেষ মুহূর্তে সেই শুল্ক কার্যকরের সময় পিছিয়ে দেন ট্রাম্প।
চুক্তি চূড়ান্ত করতে চলতি সপ্তাহে কানাডার আলোচকরা ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। প্রস্তাবিত চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুরের পর তিনি তার দলের সদস্যদের নিয়ে গ্রিয়ারের কার্যালয়ে পৌঁছান এবং প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সেখান থেকে বের হন। বৃহস্পতিবারও দুই কর্মকর্তা প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন।
লেব্লাঙ্কার সর্বশেষ মন্তব্যের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কানাডার সাথে আমাদের একটি চুক্তি করতে পারা উচিত।’
এ ক্ষেত্রে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাথে তার ‘ভালো সম্পর্কের’ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গাড়ি ও ধাতব পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার চায় কানাডা
কানাডা গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক থেকে ছাড় চায়। এসব শুল্ক কানাডার অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করেছে, কর্মসংস্থান কমিয়েছে এবং একসময় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি করেছে।
কার্নি কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলগুলোর নেতাদের সাথে বৈঠক করার পর চলতি সপ্তাহে প্রস্তাবিত চুক্তির কিছু বিষয় প্রকাশ্যে আসে।
ধারণা করা হচ্ছে, কিছু নির্দিষ্ট খাতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমাতে পারে। তবে পুরোপুরি প্রত্যাহার নাও হতে পারে।
সাসকাচোয়ানের রক্ষণশীল প্রিমিয়ার স্কট মো বলেছেন, ট্রাম্পের আগের সময়ের মতো ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বাণিজ্য আইনজীবী রায়ান মাজেরুস বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, নির্দিষ্ট খাতগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক ব্যাপকভাবে কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয়, দুই পক্ষই এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ চায়।’
তবে তার মতে, শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য অটোয়া সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যে চুক্তিই হোক, তাতে কানাডার জনগণের একাংশ অসন্তুষ্ট হতে পারে।
কানাডার বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিও শুক্রবার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। দলটির নেতা পিয়েরে পোয়েলিয়েভর বলেন, ‘কানাডার শিল্পের ওপর একতরফা শুল্ক আরোপ কোনো ভালো চুক্তি হতে পারে না।’
সূত্র : বাসস



