ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট ফিরে আসার তারিখ ছাড়াই সাগরে দিন কাটাচ্ছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস লিঙ্কন। আর সেখানে মোতায়েন পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনার মানসিক স্বাস্থ্য, খাবারের ঘাটতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাদের স্বজনরা।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু শনিবার (৮ আগস্ট) শুক্রবার এমএস নাও-এর এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানায়, বৃহস্পতিবার সান দিয়েগোতে ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও-এর সঙ্গে দেখা করেন প্রায় ২০০ সামরিক পরিবারের সদস্য। সেখানে তারা বিমানবাহী রণতরীটিতে থাকা স্বজনদের মানসিক চাপ, চরম ক্লান্তি, খাবারের সংকট, পানির দুষণ, বাথরুম সমস্যা এবং ডাক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।
নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও জানান, লিঙ্কনকে সরিয়ে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার কারণে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে রওয়ানা দেয়া লিঙ্কনের গত শুক্রবার পর্যন্ত টানা ২৫৯ দিন মোতায়েন পার হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে জাহাজটি মাত্র দুইবার তীরে নোঙর করে, যার মধ্যে গত ৭ জুলাই ওমানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি ছিল। ফলে টানা ২০৮ দিন ধরে সাগরে অবস্থান করছে জাহাজের কর্মীরা।
ভাইস এডমিরাল জোসেফ কাহিল জানান, এই চাপ নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে তা নৌবাহিনী ভালোভাবে বুঝতে পারছে। তারা জানান, সৈনিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলর ও চ্যাপলেইন বা খ্রিষ্টান পুরোহিতরা কাজ করছেন।
স্বজনরা নষ্ট টয়লেট ও গোসলখানায় ছত্রাক জন্মানোর অভিযোগ তুললে নৌ কর্মকর্তারা জানান, একটি জায়গায় টয়লেটে জট লেগেছিল এবং বায়ু চলাচলের সমস্যার কারণে হয়তো সামান্য ময়লা জমেছে।
যুদ্ধে বাহরাইন কেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য, নিত্যপণ্য ও চিঠিপত্র পৌঁছাতে সমস্যা হয়েছিল বলে জানান ভাইস এডমিরাল ডগলাস ভেরিসিমো। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত করার চেষ্টা চলছে।



