ভেনিজুয়েলার তিনজন বিরোধী নেতাকে গতকাল রোববার কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এই নেতারা নোবেল শান্তি বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ।
দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আটক করার পর রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেয়া শুরু করার এক মাস পর এই মুক্তি দেয়া হলো।
প্রায় তিন দশকের সমাজতান্ত্রিক শাসনামলে ভিন্নমতাবলম্বীদের আটক করতে ব্যবহৃত অভিযোগগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, একটি ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে মঙ্গলবার ভোটাভুটির প্রস্তুতির মধ্যেই এই মুক্তিগুলো দেয়া হয়েছে।
জাতীয় পরিষদের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ৬১ বছর বয়সী হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টের ভিডিওতে ফুটেজে তার মুক্তির কাগজপত্র দেখা দেখা যায়।
ভিডিওতে গুয়ানিপা বলেন, ‘আমরা এখানে আছি, মুক্তি পাচ্ছি।’
তিনি বলেন, তিনি ১০ মাস আত্মগোপনে ছিলেন, প্রায় ৯ মাস এখানে কারাকাসে আটক ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘ভেনিজুয়েলার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার অনেক কিছু আছে, আর সেই আলোচনায় সত্যই হবে আমাদের পথপ্রদর্শক।’
কয়েক ঘণ্টা পর মাচাদোর সাবেক আইনি উপদেষ্টা পারকিন্স রোচাকেও মুক্তি দেয়া হয়। একই সাথে মুক্তি পান ফ্রেডি সুপারলানো।
ফ্রেডি এক সময় বারিনাসে গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। এই অঞ্চলটি প্রয়াত সমাজতান্ত্রিক আইকন হুগো চাভেজের নিজ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
রোচার স্ত্রী মারিয়া কনস্তানজা সিপ্রিয়ানি এক্সে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘রোচাসহ আমরা বাড়িতে আবস্থান করছি।’
বিরোধী দল কর্তৃক বর্জন করা আইনসভা ও আঞ্চলিক নির্বাচনকে দুর্বল করার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে, ২০২৫ সালের মে মাসে গুয়ানিপাকে গ্রেফতার করা হয়।
সন্ত্রাসবাদ, অর্থ পাচার, সহিংসতা ও ঘৃণার প্ররোচনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গ্রেফতারের আগে ওই বিরোধী নেতা আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখা যায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, যখন তিনি মাদুরো বিরোধী এক সমাবেশে মাচাদোর সাথে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস



