ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সংক্ষেপে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের উপস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একটি অনুষ্ঠান বাতিলের জন্য নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা।
এই বিতর্কিত আয়োজন বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রভাবের বিস্তার নিয়ে মেয়রকে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মিডলইস্ট আই মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জানায়, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির অনুঘটক হিসেবে পরিচিত শতবর্ষী সংগঠন আরএসএসের শীর্ষ নেতার এই সফরের প্রতিবাদে স্থানীয় সিটি হলের সামনে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা 'হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস'-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক শ্রাব্যা তাদেপল্লি এক বিবৃতিতে বলেন, মোহন ভগবত সাধারণ হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তিনি একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন, যা ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর হামলা, বৈষম্য ও ভীতি সৃষ্টিতে ইন্ধন যুগিয়েছে। নিউইয়র্কের মতো বহুত্ববাদী শহরে এ ধরনের উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে একতার মোড়কে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্র্যাড ল্যান্ডার ও শাহানা হানিফের মতো প্রভাবশালী স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ ডজনখানেক মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন ইতোমধ্যেই মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই আয়োজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ইতিহাসবিদ ও গবেষক এডওয়ার্ড অ্যান্ডারসনের মতে, ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে আসছে আরএসএস। নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে সংগঠনটির দৃশ্যমান প্রভাব জাহির করা এবং সেই চিত্র ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহার করার মতলব রয়েছে।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই সে দেশে সংখ্যালঘু মুসলমান ও খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি অতীতে ভারতে ক্রমবর্ধমান এই উগ্র হিন্দুত্ববাদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি মেয়র হওয়ার আগে আয়োধ্যা ইস্যুতে বিতর্কিত একটি প্রদর্শনী ভারতীয় শোভাযাত্রা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যুতে তাঁর পদক্ষেপগুলো বাস্তবমুখী নাকি কেবলই রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষার চেষ্টা—এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।



