হার্ভার্ডে বিদেশী ছাত্রদের ভিসা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মার্কিন উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক শিক্ষার্থী সম্প্রদায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি |বিবিসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী বিদেশী ছাত্রদের ভিসা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন।

বুধবার তিনি এক নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যেখানে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং যুক্তি দেয়া হয়েছে যে বিদেশী ছাত্রদের অনুমতি প্রদান মার্কিন স্বার্থের জন্য ‘ক্ষতিকারক’।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হার্ভার্ড এই আদেশকে ‘প্রতিশোধমূলক নির্দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং বলেছে যে তারা তাদের আন্তর্জাতিক ছাত্রদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।

এই আদেশটি এমন এক সময়ে এলো যখন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হোয়াইট হাউসের একাধিক দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) হার্ভার্ডের বিদেশী ছাত্রদের ভর্তি সংক্রান্ত সার্টিফিকেশন বাতিল করলেও একজন বিচারক সেটি স্থগিত করেন। পরে আরেক ফেডারেল বিচারক আরো স্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করেন, যাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে হার্ভার্ডে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন।

তবে বুধবারের ট্রাম্পের ঘোষণার ফলে এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন আদেশে বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছে এবং যারা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, তাদের বিদ্যমান ভিসা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিবেচনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, হার্ভার্ড ‘বিদেশী শিক্ষার্থীদের পরিচিত অবৈধ বা বিপজ্জনক কার্যকলাপ’ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মাত্র তিনজন শিক্ষার্থীর তথ্য না দেয়ার অভিযোগ এনেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এই তথ্য বিবেচনা করে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য শুধুমাত্র বা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক বিদেশী নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন।’

হার্ভার্ড এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করে ‘অবৈধ প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসনের কোটি কোটি ডলারের ফেডারেল তহবিল আটকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছিল এবং ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগেও সমালোচিত হয়েছে।

২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড প্রায় ৭,০০০ বিদেশী শিক্ষার্থীকে ভর্তি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছাত্রসংখ্যার ২৭ শতাংশ। সম্প্রতি এক চীনা শিক্ষার্থী স্নাতক সমাবর্তনে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন চীনা ছাত্রদের ভিসা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে এবং ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও হোয়াইট হাউস সম্প্রতি হুমকি দিয়েছে, সেখানে ইহুদি ছাত্রদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের স্বীকৃতি বাতিল করা হতে পারে।

ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মার্কিন উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক শিক্ষার্থী সম্প্রদায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : রয়টার্স