কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬৬

সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন সেনা, ছয়জন বিমানবাহিনীর সদস্য এবং দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। রয়টার্সের একাধিক সূত্রও অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কলম্বিয়া বিধ্বস্ত বিমান ঘিরে সেনা সদস্য ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা
কলম্বিয়া বিধ্বস্ত বিমান ঘিরে সেনা সদস্য ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা |রয়টার্স

দক্ষিণ আমেরিকা দেশ কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন যাত্রী। বিমানটিতে মোট ১২৫ জন যাত্রী ছিলেন। যার মধ্যে ১১৪ জন সেনা কর্মকর্তা ও ১১ জন বিমান ক্রু ছিলেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ মার্চ) ভোরে দেশটির দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল পুতোমায়ো বিভাগের পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন সেনা, ছয়জন বিমানবাহিনীর সদস্য এবং দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। রয়টার্সের একাধিক সূত্রও অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে।

পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের মেয়র লুইস এমিলিও বুস্টোস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা এ পর্যন্ত ৬৬ জন নিহতের খবর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।”

পুতোমায়ো বিভাগের গভর্নর জন গ্যাব্রিয়েল মোলিনা পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়ে নিহত ৩৪ জনের মধ্যে ২১ জনের মরদেহের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি থেকে জীবিত অবস্থায় এ পর্যন্ত ৪৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৮০ জন।

বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজটি ছিল মার্কিন সমরাস্ত্র ও যুদ্ধযান নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিনের তৈরি একটি হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান। কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর মাত্র দেড় কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা অবস্থাতে বিধ্বস্ত হয়ে ভূমিতে আছড়ে পড়ে বিমানটি।

এক্সবার্তায় কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, লকহিড মার্টিন নির্মিত হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহন করে উড্ডয়নের সময় “একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার” শিকার হয়। পেরু সীমান্তের কাছাকাছি এই ঘটনাকে তিনি “দেশের জন্য গভীর বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে তিনি জানান, বিমানটি কোনো প্রকার হামলার শিকার হয়নি এবং সেটির চালকরা যথেষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ ছিলেন।বিমানে আগুন লাগার ফলে বহন করা গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হয়, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে এবং সেনাবাহী যানবাহন ঘটনাস্থলের দিকে যেতে দেখা যায়। এছাড়া স্থানীয়দের ছোট মোটরসাইকেলে করে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার দৃশ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এই দুর্ঘটনাকে “ভয়াবহ” বলে আখ্যায়িত করে বলেন, “এটি হওয়া উচিত ছিল না।” একই সঙ্গে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সরঞ্জাম আধুনিকায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করেন।

তিনি আরো বলেন, “আর কোনো বিলম্ব সহ্য করা হবে না, আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।”

সূত্র : বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স।