যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ শুক্রবার (৮ মে) চীন-হংকংসহ ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। বিভাগটির অভিযোগ রয়েছে, তারা ইরানের শাহেদ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা করেছে।
ট্রেজারির এ পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকের জন্য চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা করছেন।
এক বিবৃতিতে ট্রেজারি বিভাগ বলেছে, তেহরান যাতে তার উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সেজন্য তারা ইরানের সামরিক শিল্প ভিত্তির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ট্রেজারি বিভাগ আরো বলেছে, অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সমর্থনকারী যেকোনো বিদেশী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত। এছাড়াও, ইরানের প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে, যার মধ্যে চীনের স্বাধীন ‘টিপট’ তেল শোধনাগারের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে।
অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতার ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেয়াই ট্রেজারির এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের তহবিলভুক্ত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েনন্সের মতে, ইরান ড্রোন উৎপাদনের একটি প্রধান দেশ এবং প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনভিত্তিক ইউশিতা সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোম্পানি ও হিটেক্স ইনসুলেশন নিংবো কোম্পানি, দুবাইভিত্তিক এলিট এনার্জি, হংকংভিত্তিক এইচকে হেসিন ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি ও মুস্তাদ লিমিটেড, বেলারুশভিত্তিক আর্মারি অ্যালায়েন্স, ইরানভিত্তিক পিশগাম ইলেকট্রনিক সাফেহ কোম্পানি।
সূত্র: রয়টার্স



