যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে প্রাণঘাতী এক শীতকালীন ঝড় রোববার আঘাত হেনেছে। এতে করে টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ মানুষকে সড়কে না নামার আহ্বান জানিয়েছে।
ঝড়ের কারণে বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঝড়ের প্রভাবে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও হিমশীতল বৃষ্টি হয়।
কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঝড়ের পেছনে থাকা আর্কটিক শীতল বায়ুর কারণে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দেবে। এতে দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘ ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেন।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দফতর (এনডব্লিউএস) জানায়, আগামী সপ্তাহ জুড়েই তুষার ও শিলাবৃষ্টির প্রভাব থাকবে এবং এ সময় সড়ক ও হাঁটার পথ দীর্ঘ সময় বরফাচ্ছন্ন থাকতে পারে ও এ কারণে সেই পথগুলো বিপজ্জনক হতে পারে।
রোববার ঝড়জনিত প্রথম প্রাণহানির খবরও আসে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সেখানে হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, সপ্তাহের শেষে হিমশীতল আবহাওয়ায় শহরের বাইরে পাঁচজনের লাশ পাওয়া গেছে।
তিনি মৃত্যুগুলো সরাসরি আবহাওয়াজনিত কি-না, তা নিশ্চিত না করলেও সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভয়াবহ শীতের বিপদের কথা মনে করিয়ে দেয়ার চেয়ে কঠোর বার্তা আর নেই।’
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার তথ্য অনুসরণকারী ওয়েবসাইট পাওয়ার আউটেজ ডট কম জানায়, শনিবার ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল বেশিভাগ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে এবং রোববার বিকেল পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন।
টেনেসিতে বরফের স্তর বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী লাইন ছিড়ে ফেলায় তিন লক্ষাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।
লুইজিয়ানা, মিসিসিপি ও জর্জিয়ায় এমন ঝড় তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে প্রতিটি রাজ্যেই লক্ষাধিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রচণ্ড শীতে আক্রান্ত দক্ষিণাঞ্চল এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এনডব্লিউএস সতর্ক করেছে, এই প্রচণ্ড শীত নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউইয়র্ক পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
টেক্সাসের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে পোস্টে অত্যাবশ্যক না হলে বাইরে যেতে সতর্কতা জানিয়েছে।
রোববার ঝড়টি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয় এবং এর প্রভাবে ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্ক ও বোস্টনের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে তুষার ও শিলাবৃষ্টি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানী ওয়াশিংটনের বাসিন্দারা সকালে ফুটপাত ও সড়কে কয়েক ইঞ্চি পুরু তুষারের আস্তরণ দেখতে পান। সেখানে ভারী শিলাবৃষ্টি হয়।
সোমবারের জন্য ফেডারেল দফতরগুলো আগেভাগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন, ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্কের একাধিক বড় বিমানবন্দরে ওই দিনের প্রায় সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটএওয়্যার ডট কম জানায়, রোববার যুক্তরাষ্ট্রে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর আগের দিন চার সহস্রাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সোমবারের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘এই ঝড়ের পথে থাকা সব অঙ্গরাজ্যের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
তিনি সকলকে নিরাপদ ও উষ্ণ থাকার আহ্বান জানান।
সূত্র : বাসস



