ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হয়েছে ‘কাজ নয়, স্কুল নয়, কেনাকাটা নয়’ শীর্ষক সাধারণ ধর্মঘট।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিভিন্ন মানবাধিকার ও অভিবাসনপন্থী সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
এই ধর্মঘটের পেছনে তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে মিনেসোটায় চলতি মাসে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিকের নিহত হওয়ার ঘটনা। এর মধ্যে ২৪ জানুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টি। এ ঘটনার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) তার হত্যাকাণ্ডে একটি নাগরিক অধিকার তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেয়।
তবে একই মাসের ৭ জানুয়ারি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টের গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুডের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত শুরু হয়নি।
মিনিয়াপোলিসের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ধর্মঘটের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “আইসিই-এর সন্ত্রাসী অভিযানের বিরুদ্ধে আজকের সাধারণ ধর্মঘটে অংশ নেয়া প্রত্যেকের সঙ্গে সংহতি। আপনারা বিশ্ব বদলে দিচ্ছেন।”
তদন্ত ও বিতর্ক
গুড ও প্রেট্টির হত্যাকাণ্ড ঘটে ট্রাম্প প্রশাসনের মিনেসোটায় বিশেষ অভিবাসন অভিযানের পরপরই, যা মূলত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে পরিচালিত হচ্ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশজুড়ে বহিষ্কার অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড় কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
শুক্রবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, প্রেট্টির মৃত্যুর আগে ও পরে ঘটে যাওয়া সব ঘটনাই তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, প্রেট্টি এজেন্টদের দিকে অস্ত্র তাক করেছিলেন—যা পরে প্রত্যাহার করা হয়। তদন্তভার এখন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ থেকে এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গুডের বিষয়ে তদন্ত না করার ব্যাখ্যায় ব্ল্যাঞ্চ বলেন, প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলির ঘটনায় নাগরিক অধিকার তদন্ত হয় না; বিশেষ পরিস্থিতি থাকতে হয়। উল্লেখ্য, প্রশাসন গুডকে প্রথমে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিলেও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারকে নিজস্ব তদন্ত চালাতে বাধা দিয়েছে।
দেশজুড়ে বিক্ষোভ
ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউস অভিমুখে মিছিল করেন। অ্যারিজোনা ও কলোরাডোসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক অনুপস্থিতির আশঙ্কায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়। মিশিগানের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নামে।
পোর্টল্যান্ডের মেয়র মার্ক ডায়ন বলেন, “ভিন্নমত গণতান্ত্রিক, ভিন্নমতই আমেরিকান গণতন্ত্রের ভিত্তি।”
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ধর্মঘটকে আইসিই-এর ‘নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ’ বলে অভিহিত করেন।
ম্যাকালেস্টার কলেজের অধ্যাপক ডাচেস হ্যারিস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে—প্রতিরোধ ছাড়া কোনো অগ্রগতি আসেনি। এই আন্দোলন বিভাজন বাড়াতে পারে, আবার সংস্কারের দিকেও মোড় নিতে পারে।”
সূত্র: আল জাজিরা।



