যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৩১ জুলাই) রসিকতা করে বলেছেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) লক্ষ্যবস্তু নন।
এদিকে, তার প্রশাসন এই আদালতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সদস্য দেশগুলোকে সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘যাই হোক, এমন কোনো তথ্য নেই যে তারা আমার পেছনে লেগেছে। তবে এমনটা ঘটতেও পারে।’ এ কথা বলার সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা হাসিতে ফেটে পড়েন।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরছিলেন। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বাধা দিয়ে বলেন, ‘তিনি আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন না। তিনি বিবি (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) এবং আরো কিছু মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।’
এখানে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডাকনাম ব্যবহার করেন। নেতানিয়াহু ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে থাকা এই আদালতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হয় এবং মিত্র দেশগুলোকে সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আইসিসির সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। ইতোমধ্যে আদালতের কয়েকজন বিচারকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি এমন গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে, যেসব অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেরা করতে ইচ্ছুক নয় বা সক্ষম নয়।
তবে রুবিও শুক্রবার আইসিসিকে ‘একটি অবৈধ আন্তর্জাতিক সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার চুক্তির অংশীদার নয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দুই দেশই।
রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের সংস্কার করতে এবং আমাদের কথা শুনতে বলেছিলাম। তারা তা করেনি। তারা অত্যন্ত উদ্ধত। এখন আমরা ওই আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।’
তিনি জানান, পাঁচটি দেশ আইসিসি থেকে সরে গেছে বা সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তিনি অন্য দেশগুলোকেও একই পথে যাওয়ার আহ্বান জানান।
চাদ ও ভেনিজুয়েলা উভয় দেশই সম্প্রতি আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: বাসস



