ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ভূমিকা মূল্যায়ন করে এ সংঘাতকে একটি ভয়াবহ ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার কোনো কৌশলগত লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি, বরং এর সামরিক অবস্থান, আঞ্চলিক জোট এবং অর্থনৈতিক স্বার্থও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন মিয়ারশাইমার ‘আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিণতি বিশ্লেষণ করে বলেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এক বিধ্বংসী পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে এবং অভিযানের শুরুতে যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিল, তার একটিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটন চারটি লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল—
১. ইরানে সরকারের পরিবর্তন ঘটানো।
২. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ধ্বংস করা।
৩. ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং হামাসের প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করা।
৪. ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা।
মিয়ারশাইমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই চারটি লক্ষ্য অর্জনেই ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ যুদ্ধের ফলে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের জোটব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিও একটি গুরুতর সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে।
শেষে মিয়ারশাইমার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিকল্প কৌশল উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই চলমান এই সঙ্কটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
সূত্র: পার্সটুডে



