তাইওয়ানের কাছে ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যা চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে থাকা দেশটির জন্য এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় মার্কিন অস্ত্র বিক্রির চুক্তি। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
এটি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তাইওয়ানের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অস্ত্র বিক্রির দ্বিতীয় ঘটনা। এমন এক সময়ে এ ঘোষণা এলো, যখন বেইজিং সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির আওতায় আট ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ‘হিমার্স’, হাউইটজার কামান, জ্যাভলিন ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন।
এতে আরো বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত আত্মরক্ষা ও শক্তিশালীভাবে দ্রুত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাইওয়ানকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে পেন্টাগন চুক্তির বিশদ বিবরণ ঘোষণা করে পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণ ও ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা’ বজায় রাখার অব্যাহত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তাইওয়ান তার সশস্ত্র বাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনায় সক্ষম করে তোলার জন্য কাজ করছে। ছোট, সস্তা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ড্রোন বা মোবাইল রকেট ব্যবহার করে চীনের বিশাল বাহিনীকে মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের দেশ প্রতিরক্ষা সংস্কারের প্রচার অব্যাহত রাখবে, সমগ্র সমাজের প্রতিরক্ষা স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করবে, আত্মরক্ষার জন্য আমাদের দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করবে এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি রক্ষা করবে।’
এর আগে, গত মাসে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ৪০ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র : রয়টার্স



