‘আসন্ন আর্থিক ধসের’ মুখে জাতিসংঘ, গুতেরেসের সতর্কবার্তা

সম্প্রতি সব সদস্যরাষ্ট্রকে পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস বলেন, আর্থিক বিধি সংস্কার অথবা নির্ধারিত চাঁদা সময়মতো পরিশোধ—এই দুইয়ের একটিতে সম্মত না হলে জাতিসংঘ কার্যত আর্থিকভাবে অচল হয়ে পড়বে। চিঠিতে তিনি সদস্যদেশগুলোকে দ্রুত তাদের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধের আহ্বান জানান।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস |সংগৃহীত

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না হওয়ায় সংস্থাটি ‘আসন্ন আর্থিক ধসের’ ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি এ পরিস্থিতিকে জাতিসংঘের জন্য একটি গুরুতর সঙ্কট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি সব সদস্যরাষ্ট্রকে পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস বলেন, আর্থিক বিধি সংস্কার অথবা নির্ধারিত চাঁদা সময়মতো পরিশোধ—এই দুইয়ের একটিতে সম্মত না হলে জাতিসংঘ কার্যত আর্থিকভাবে অচল হয়ে পড়বে। চিঠিতে তিনি সদস্যদেশগুলোকে দ্রুত তাদের বার্ষিক চাঁদা পরিশোধের আহ্বান জানান।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি)এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন,

“চাঁদা পরিশোধের ক্ষেত্রে এখন আর সময় নেই—এটা ‘এখনই না হলে কখনোই নয়’ পরিস্থিতি।”

তিনি আরো বলেন, আগের বছরগুলোর মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ ও তারল্য এখন জাতিসংঘের হাতে নেই।

বকেয়া চাঁদা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

গুতেরেস নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও তার এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর জন্য ওয়াশিংটনের অর্থায়ন কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘের মূল বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ২২ শতাংশ, যা সর্বোচ্চ। এর পরেই রয়েছে চীন, ২০ শতাংশ অবদান নিয়ে। গুতেরেস জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

ব্যয় সংকোচনেও ঝুঁকি কাটেনি

চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন দেয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও মহাসচিব সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই সংস্থার তহবিল ফুরিয়ে যেতে পারে।

চিঠিতে গুতেরেস আরো উল্লেখ করেন, একটি পুরোনো নিয়মের কারণে প্রতিবছর অব্যবহৃত অর্থ সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ফেরত দিতে হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

“বাস্তবে অস্তিত্বহীন অর্থ ফেরত দেওয়ার এক জটিল চক্রে আমরা আটকে পড়েছি,”—চিঠিতে বলেন তিনি।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ তাদের ২০২৬ সালের পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে।

সূত্র : আল জাজিরা।