মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার বলেছেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করবেন। এই শুল্ক অটোমোবাইল, কাঠ, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অন্যান্য পারস্পরিক শুল্কে প্রযোজ্য হবে।
ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াশিংটনের সাথে পূর্বে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলেনি। তাই এই পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে।
এই বৃদ্ধির ফলে শুল্কের হার ১৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি হয়ে ২৫ শতাংশ হবে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর করেনি। তার ভাষায়, ‘চুক্তি কার্যকর করা তাদের অধিকার। কিন্তু চুক্তি না মানা পর্যন্ত আমরা শুল্ক বাড়াচ্ছি।’ তবে নতুন শুল্ক ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ পায়নি।
সিউল আরো জানায়, বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটন সফর করবেন এবং মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকের সাথে বৈঠক করবেন।
ওয়াশিংটন এবং সিউলের মধ্যে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক মাস পর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শুল্ক বৃদ্ধির এ ঘোষণা এলো।
গত বছর অক্টোবর মাসে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং-এর সাথে বৈঠক করার পর চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয় এবং এতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হ্রাস অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তারপর থেকে এটি দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছুটা আইনগত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে।
গত নভেম্বর মাসে সিউলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জোর দিয়ে বলেছিল, এই চুক্তির জন্য সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই, যুক্তি দিয়ে বলেছে যে এটি একটি বাধ্যতামূলক আইনি দলিলের পরিবর্তে একটি সমঝোতা স্মারক।
শুল্ক চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য সংসদে পাঠানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, মঙ্গলবার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তারা এটি খতিয়ে দেখছেন। তবে তারা বিস্তারিত কিছু বলেননি।
সূত্র : বাসস



