২ বছরের খরার পর আমাজনে পানির স্তর বেড়েছে

টানা দুই বছরের খরার পর ২০২৫ সালে বৃষ্টিপাত বাড়ায় ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে পানির স্তর কিছুটা বেড়েছে, যা ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ২.৬ শতাংশ বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
২০২৫ সালে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে
২০২৫ সালে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে |সংগৃহীত

টানা দুই বছরের তীব্র খরার পর ২০২৫ সালে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। রিও ডি জেনেইরো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

স্বাদুপানির বিশ্বের মোট সরবাহের প্রায় ১২ শতাংশ পরিমাণ ব্রাজিলে রয়েছে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আমাজন অঞ্চলে।

ভূমির ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার নেটওয়ার্ক ম্যাপবায়োমাসের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালে আমাজনের পানির স্তর ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি ছিল।

তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভয়াবহ আবহাওয়াজনিত ঘটনা ক্রমেই বেশি ঘটছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

ম্যাপবায়োমাসের আমাজন টিমের সদস্য ব্রুনো ফেরেইরা বলেন, ‘ভয়াবহ আবহাওয়ার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের কারণে জলপ্রবাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।’

ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে বনাঞ্চল, জলাভূমি ও তৃণভূমিসহ বিভিন্ন ধরণের জীবমণ্ডল রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাজন অববাহিকার দক্ষিণে অবস্থিত ব্রাজিলের জলাভূমি অঞ্চল পানতানালে ২০২৫ সালের শেষে পানির স্তর ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ কম ছিল।

যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ওই বছর অঞ্চলটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছিল। তবু পানতানাল দেশটির সবচেয়ে বেশি চাপে থাকা প্রতিবেশ ব্যবস্থা হিসেবেই রয়ে গেছে।

প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা এল নিনোর আগমন সাধারণত আমাজনের বিভিন্ন অংশে খরা সৃষ্টি করে ও পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করে।

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটানো এই জলবায়ুগত ঘটনাটি গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ এটি রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে তীব্র এল নিনোগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : বাসস