কলম্বিয়ায় দুই পৃথক গেরিলা হামলায় নিহত ১৮

স্থানীয় সময় বিকাল ৩টার দিকে ক্যালির একটি সামরিক বিমান চলাচল স্কুলের কাছে একটি ব্যস্ত রাস্তায় বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

কলম্বিয়ায় দুইটি পৃথক গেরিলা হামলায় বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ১৮ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশটিতে ভিন্নমতাবলম্বী গেরিলা গোষ্ঠীকে এই দুইটি হামলার জন্য দায়ী করা করা হয়েছে।

দুই পৃথক হামলার একটিতে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছে এবং অপরটিতে ড্রোনের মাধ্যমে একটি পুলিশ হেলিকপ্টারকে ভূপাতিত করা হয়েছে। এই হামলাগুলো কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা সংকটকে আরো গভীর করে তুলেছে।

কলম্বিয়ার ক্যালি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালি ও উত্তরে একটি খামারে আঘাত হানা সর্বশেষ প্রাণঘাতী হামলাগুলো আগামী বছর নির্বাচনের আগে কলম্বিয়ার ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় বিকাল ৩টার দিকে ক্যালির একটি সামরিক বিমান চলাচল স্কুলের কাছে একটি ব্যস্ত রাস্তায় বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী প্রত্যক্ষদর্শী হেক্টর ফ্যাবিও বোলানোস এএফপিকে বলেন, ‘বিমান ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে।’ তিনি আরো বলেন, এ হামলায় অনেকেই আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, যানবাহনে আগুন ধরে গেছে, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, আহত মানুষ মাটিতে পড়ে আছে। এ সময় অ্যালার্ম ও ভীত-শঙ্কিত মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।

ক্যালির মেয়র আলেজান্দ্রো এডার দেশের তৃতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহরটিতে সামরিক আইন জারি করেছেন। তিনি শহরে বড় ট্রাক প্রবেশের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এবং এই হামলা সম্পর্কে তথ্য জানালে ১০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন।

এদিকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই হামলার জন্য সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ (ইএমসি) গেরিলা গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন যুদ্ধবাজ ইভান মর্ডিস্কো। ২০১৬ সালে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির জন্য অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হওয়ার পর এই গোষ্ঠীটি বিলুপ্ত রেভোলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অফ কলম্বিয়া (এফএআরসি) থেকে আলাদা হয়ে যায়।

সূত্র : বাসস