যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার

শীর্ষ এআই সংস্থাগুলোর সাথে চুক্তি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর বা ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার বছরের শুরু থেকেই এই প্রযুক্তি খাতের মোড়লদের সাথে তলে তলে আলাপ চালিয়ে আসছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগন
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগন |ফাইল ছবি

খোদ রণক্ষেত্রে এবার কাজ করবে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। নিজেদের গোপন নেটওয়ার্কে আধুনিক এআই প্রযুক্তি যুক্ত করতে বিশ্বের বাঘা বাঘা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে বড়সড় চুক্তি সেরে ফেলেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগন। এই তালিকায় চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবক ওপেনএআই থেকে শুরু করে গুগল, মাইক্রোসফট ও ইলন মাস্কের স্পেসএক্সও রয়েছে।

পেন্টাগন শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত তথ্য বিশ্লেষণ সহজ করা, যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতি দ্রুত বোঝা এবং জটিল পরিবেশে সেনাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এই মহা-আয়োজনে জায়গা পায়নি শীর্ষ এআই স্টার্টআপ ‘অ্যানথ্রোপিক’। যুদ্ধ বা নজরদারিতে নিজেদের প্রযুক্তির অপব্যবহার হতে পারে এমন আশঙ্কায় পেন্টাগনের সব শর্ত না মানায় তাদের অনেকটা ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর বা ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার বছরের শুরু থেকেই এই প্রযুক্তি খাতের মোড়লদের সাথে তলে তলে আলাপ চালিয়ে আসছিল। তাদের লক্ষ্য একটাই— সামরিক অভিযানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তির জোগানদাতাদের পরিধি বড় করা। যদিও বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, যুদ্ধের বিদ্যমান আইন মেনে এই এআই কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এছাড়া শান্তির সময়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হরণ করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে বলেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন।

তবে এসব সমালোচনা গায়ে না মেখে পেন্টাগন জানিয়েছে যে, তারা স্পেসএক্স, ওপেনএআই, গুগল, এনভিডিয়া, রিফ্লেকশন, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস ও ওরাকলের সাথে চুক্তি করেছে। এসব কোম্পানির তৈরি এআই সিস্টেমগুলো ‘আইনসম্মত সামরিক কাজে’ ব্যবহার করা হবে।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নিজস্ব এআই প্ল্যাটফর্ম ‘জেনএআই ডট মিল’ গত পাঁচ মাসে প্রায় ১৩ লাখ কর্মী ব্যবহার করেছেন। সেখানে কয়েক কোটি প্রম্পট বা নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং লাখ লাখ এআই অ্যাজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।

পেন্টাগনের দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে যেসব কাজ করতে আগে মাসখানেক সময় লাগত, এখন তা মাত্র কয়েক দিনেই শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় ‘অ্যানথ্রোপিক’ নামক কোম্পানিটির সাথে পেন্টাগনের সম্পর্ক চরম তিক্ততায় রূপ নিয়েছে। কোম্পানিটি তাদের প্রযুক্তির সেফগার্ড বা সুরক্ষাকবচ শিথিল করতে রাজি হয়নি। তাদের যুক্তি ছিল, এই প্রযুক্তি দেশের ভেতরে নজরদারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।

এই অবাধ্যতার ফল হিসেবে পেন্টাগন কোম্পানিটিকে ‘সাপ্লাই-চেইন রিস্ক’ বা সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু দেশগুলোর সাথে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর এই তকমা লাগানো হয়। এই তকমার কারণে ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের কোনো কাজ পাওয়া অ্যানথ্রোপিকের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি চলতি সপ্তাহে মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইকে ‘আদর্শিক পাগল’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

হেগসেথ তুলনা করে বলেন, ‘এটি অনেকটা এমন যে বোয়িং আমাদের কাছে বিমান বিক্রি করবে আর বলে দেবে যে আমরা কার ওপর গুলি চালাতে পারব আর কার ওপর পারব না।’

বর্তমানে এই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ তকমা মোছার জন্য পেন্টাগনের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই চালাচ্ছে অ্যানথ্রোপিক।

সূত্র : আরটি