যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে তেলসমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলার বর্তমান নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের পরিণতিও সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো হতে পারে।
পূর্ব-লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটিকে রুবিও বলেন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ‘মাদুরোর পরিণতি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত’ আছেন।
রুবিও বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, তার নিজের স্বার্থ আমাদের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না- প্রেসিডেন্ট যেমনটি বলেছেন, অন্য সব উপায় ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমরা শক্তি প্রয়োগেও প্রস্তুত।’
সাবেক সিনেটর রুবিও কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগের মুখে সিনেট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করেছে এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন কমান্ডো বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে।
তাদের দু’জনকেই যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে নিউইয়র্কে নেয়া হয়। তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রুবিও ওই অভিযানের জোরাল সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘দু’জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে’ এবং মাদুরোকে ‘আইনসম্মত রাষ্ট্রপ্রধান নয়, বরং অভিযুক্ত এক মাদক পাচারকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন।
রুবিও বলেন, ‘একজনও মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি ছাড়াই এবং কোনো চলমান সামরিক দখল ছাড়াই এই পুরো অভিযান সম্পন্ন করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুব কমই আছে, যেখানে এত কম খরচে এত বেশি অর্জন সম্ভব হয়েছে।’
তবে ভেনিজুয়েলার কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মাদুরোকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ভেনিজুয়েলান ও কিউবান নাগরিকসহ ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন, যাতে তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থে কাজ করে।
সূত্র : বাসস



