স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে কেনিয়ার একটি আদালত মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রস্তাবিত ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা স্থগিত করেছে।
শুক্রবার কেনিয়ার হাইকোর্টের বিচারপতি প্যাট্রিসিয়া নায়াউন্দি এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রটি এমন সময়ে আলোচনায় আসে, যখন মধ্য আফ্রিকাজুড়ে ইবোলার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পূর্বাঞ্চলীয় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রোগটি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা করেছিল, সম্ভাব্য আক্রান্ত মার্কিন নাগরিকদের নিজ দেশে না নিয়ে কেনিয়াতেই বিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়।
তবে কেনিয়ার মানবাধিকার সংস্থা কাতিবা ইনস্টিটিউট আদালতে আবেদন করে দাবি করেছে, পরিকল্পনাটি গোপনে ও একতরফাভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এটি “গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ” সৃষ্টি করছে।
আবেদনে বলা হয়, কেনিয়ায় বর্তমানে ইবোলার কোনো রোগী নেই। সেখানে বিদেশ থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এনে কোয়ারেন্টাইনে রাখলে দেশটিতে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রটি কোথায় স্থাপন করা হবে কিংবা কেনিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এতে অনুমোদন দিয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নাইরোবি প্রশাসন ইবোলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথেআলোচনার কথা স্বীকার করলেও কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, কেনিয়ার ইবোলা মোকাবিলা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে চায়। তবে তিনি প্রস্তাবিত কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে লাইকিপিয়া বিমানঘাঁটিতে ৫০ শয্যার একটি আইসোলেশন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। সেখানে মার্কিন চিকিৎসাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল।
এ পরিকল্পনার প্রতিবাদে কেনিয়ার চিকিৎসকদের ইউনিয়ন ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। ইউনিয়নের অভিযোগ, বিদেশি সহায়তার জন্য সরকার দেশের জনস্বাস্থ্য ও জৈব-নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
ইউনিয়নের মহাসচিব দাভজি আতেল্লাহ বলেন, “কেনিয়াকে কোনোভাবেই একটি ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ডে’ পরিণত করা যাবে না।”
কেনিয়ার আইনজীবী সমিতিও সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো দেশটিতে এখনও পর্যাপ্ত নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ডিআরসির ইতুরি প্রদেশে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের ৯০ শতাংশের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভুতেও কিছু রোগী পাওয়া গেছে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “পূর্ব ডিআরসি এখন রোগ ও সংঘাতের ভয়াবহ দ্বৈত সংকটের মুখে রয়েছে।”
তিনি জানান, ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে কঙ্গো সরকার এক হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করেছে এবং অন্তত ২২০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উগান্ডাতেও এ প্রাদুর্ভাবের সাথেসম্পর্কিত সাতজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইউরোপেও উদ্বেগ বাড়ছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে সীমান্ত নজরদারি ও সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা



