নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নভেম্বরে একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে বন্দুকধারীদের অপহৃত ১৩০ জন শিক্ষার্থীকে মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে আরো ১০০ জন শিক্ষার্থীকে মুক্ত করা হয়েছিল।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় সানডে ডেয়ার বলেছেন, ‘নাইজার রাজ্যে অপহৃত আরো ১৩০ জন শিক্ষার্থীকে মুক্ত করা হয়েছে।’
নভেম্বরের শেষের দিকে উত্তর-মধ্য নাইজার রাজ্যের সেন্ট মেরি’স কো-এডুকেশনাল বোর্ডিং স্কুল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অপহরণ করা হয়।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটে, যখন দেশটিতে অপহরণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপহরণের ঘটনার সাথে ২০১৪ সালে চিবোক শহরে উগ্রবাদী গোষ্ঠী বোকো হারাম স্কুলছাত্রীদের অপহরণের মিল রয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি একাধিক আন্তঃসংযুক্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের সম্মুখীন হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে উত্তর-পূর্বের সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে শুরু করে উত্তর-পশ্চিমের সশস্ত্র দস্যু দল। সবশেষ সেন্ট মেরি থেকে মোট কতজন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন অফ নাইজেরিয়া (সিএএন) জানিয়েছিল, পাপিরির গ্রামীণ জনপদে হামলার পর ৩১৫ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী নিখোঁজ রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায় এবং ৭ ডিসেম্বর সরকার প্রায় ১০০ জনের মুক্তি নিশ্চিত করে। অর্থাৎ ১৬৫ জন বন্দী ছিলেন। কিন্তু রোববার ১৩০ জনকে উদ্ধারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
তবে জাতিসঙ্ঘের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, যাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অপহৃত বলে ধরে নেয়া এমন কয়েক ডজন লোক হামলার সময় পালিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
সূত্রটি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বাড়ি নাইজেরিয়ার গ্রামীণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় হিসাব-নিকাশ জটিল হয়ে পড়েছে। কখনো কখনো তাদের প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছাতে মোটরবাইকে তিন বা চার ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হয়।
সূত্রটি আরো জানিয়েছে, বাকি শিক্ষার্থীদের সোমবার নাইজার রাজ্যের রাজধানী মিন্নায় নিয়ে যাওয়া হবে। এখনো চূড়ান্ত যাচাইকরণ বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে নাইজার রাজ্যে সিএএন-এর মুখপাত্র ড্যানিয়েল আতোরি।
সূত্র : আল জাজিরা



