নাইজেরিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৩০

শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে তিনটি গ্রামে হামলাগুলো চালানো হয়েছে। রোববার আওনদানা গ্রামে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। অন্য একটি গ্রামে আরো ১০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পৃথক হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সোমবার (২৬ মে) জানিয়েছেন স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা। অঞ্চলটিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পশুপালক ও কৃষকদের মধ্যে প্রায়ই এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বেনু রাজ্যের গোয়ার পশ্চিম স্থানীয় সরকার এলাকার চেয়ারম্যান অরমিন তোরসার ভিক্টর এএফপিকে বলেছেন, শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে তিনটি গ্রামে হামলাগুলো চালানো হয়েছে। রোববার আওনদানা গ্রামে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্য একটি গ্রামে আরো ১০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

আওনডোনার বাসিন্দা রুথি ড্যান স্যাম বলেছেন, ‘আওনদানায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ গ্রামে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদেরও হত্যা করা হচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ দৃশ্য হলো একটি শিশুর মুখে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।’

তিনি আরো বলেছেন, পার্শ্ববর্তী গ্রামে আরো অনেকে নিহত হয়েছেন কিন্তু তার কাছে এর কোনো হিসাব নেই।

ভিক্টর বলেছেন, তিনি ও অন্যান্য স্থানীয়রা একটি সামরিক ঘাঁটির খুব কাছে তেওয়া বিয়ানা গ্রামে নিহত এক বাবা এবং তার দুই ছেলেসহ পাঁচজনকে কবর দিয়েছেন।

বেনু রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র আনেন সেউয়েস ক্যাথেরিন এলাকায় দু’টি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, তার অফিস ২০ জনের নিহত হওয়ার কোনো খবর পায়নি।

তিনি বলেছেন, একটি অভিযানে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই পুলিশ সদস্য একটি আক্রমণ প্রতিহত করেছেন এবং তিনটি লাশ পাওয়া গেছে।

কী কারণে এ সহিংস ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। তবে ভিক্টর ফুলানি গবাদি পশুপালকদের ওপর ‘সমন্বিত আক্রমণ’কে এর জন্য দায়ী করেছেন। জমি ও সম্পদের ওপর অধিকার নিয়ে বেনুতে মুসলিম জাতিগত ফুলানি যাযাবর পশু পালকরা দীর্ঘদিন ধরেই বসতি স্থাপনকারী কৃষকদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে, যাদের অনেকেই খ্রিস্টান।

নাইজেরিয়ার তথাকথিত মিডল বেল্টে আক্রমণগুলো প্রায়শই ধর্মীয় বা জাতিগত কারণে হয়ে থাকে।

সূত্র : বাসস