আফ্রিকার গ্যাবনের গভীর অরণ্যে এক রোমহর্ষক ও বিয়োগান্তক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের শিকারি আর্নি ডোসিও। গত শুক্রবার দেশটির লোপে-ওকান্দা রেইনফরেস্টে একদল মাদি হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ৭৫ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের মৃত্যু হয়।
ইয়েলো-ব্যাকড ডুইকার নামক এক বিরল প্রজাতির হরিণ শিকার করতে গিয়ে তিনি এই বিপদে পড়েন। আর্নি ডোসিও ক্যালিফোর্নিয়ার লোডিতে বিশাল আঙ্গুর বাগানের এবং প্যাসিফিক অ্যাগ্রিল্যান্ডস নামের একটি বিশাল কৃষি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ছিলেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গলে ট্র্যাকিং করার সময় তিনি এবং তার গাইড আচমকা একটি মাদি হাতি ও তার বাচ্চাসহ পাঁচ মাদি হাতির সামনে পড়ে যান। ভয় পেয়ে বা আত্মরক্ষার্থেই হাতিগুলো তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ঘটনায় তার পেশাদার গাইডও গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইতোমধ্যে গ্যাবনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তার লাশ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আর্নি ডোসিও কোনো সাধারণ শৌখিন মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিকারি মহলে এক পরিচিত নাম। স্যাক্রামেন্টো সাফারি ক্লাবের সদস্য হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশকে তিনি হাতি থেকে শুরু করে সিংহ- অজস্র বন্যপ্রাণী শিকার করেছেন এবং তার সংগ্রহশালায় বিশাল সব ট্রফি জমিয়েছিলেন।
তার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি বন্দুক ধরার বয়স থেকে শিকার করছেন এবং তার সমস্ত কাজই ছিল বৈধ লাইসেন্স করা। তাদের মতে, এটি ছিল পশুপাখি নিধন নয়, বরং বন্যপ্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার এক ধরনের সংরক্ষণ প্রক্রিয়া।
তবে এই যুক্তি সবসময়ই পরিবেশবাদীদের কাছে বিতর্কিত। বন্যপ্রাণী শিকারের এই রক্তক্ষয়ী খেলা কেবল শখ নয়, বরং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে এটি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের এক বিশাল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে এক গভীর রাজনৈতিক ও পরিবেশগত দ্বন্দ্ব লুকিয়ে আছে। গ্যাবনের বনগুলোতে বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ বন্য হাতি বাস করে, যারা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায় শীর্ষে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ট্রফি হান্টিং ইন্ডাস্ট্রি একটি বহুজাতিক বাণিজ্যের রূপ নিয়েছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরা বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে বন্যপ্রাণী শিকারে যান।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রও কয়েক বছর আগে হাতির লেজ কেটে ছবি তুলে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন তো একবার এমন একটি বোর্ড গঠন করেছিল যারা আফ্রিকান হাতি, সিংহ এবং গণ্ডারের মাথা বা চামড়া যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির নিয়ম সহজ করতে কাজ করেছিল।
যদিও পরে আইনি লড়াইয়ের মুখে সেই বোর্ড বিলুপ্ত হয়, কিন্তু শিকারিদের এই প্রভাব রাজনৈতিক অঙ্গনে সবসময়ই জোরাল থেকেছে।



