দ্বিতীয়বারের মতো জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেন হিচিলেমা

তামা উৎপাদনে সমৃদ্ধ জাম্বিয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেফতার, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হাকাইন্ডে হিচিলেমা গত ১৩ আগস্ট লুসাকার কাবুলোঙ্গা বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুল ভোটকেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করেন
জাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি হাকাইন্ডে হিচিলেমা গত ১৩ আগস্ট লুসাকার কাবুলোঙ্গা বয়েজ সেকেন্ডারি স্কুল ভোটকেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করেন |সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ জাম্বিয়ায় আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন হাকাইন্ডে হিচিলেমা। মঙ্গলবার দেশটির নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলে তিনি প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রাদেশিক মন্ত্রী ব্রায়ান মুন্দুবিলে পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট।

তামা উৎপাদনে সমৃদ্ধ জাম্বিয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো ভয়ভীতি প্রদর্শন, গ্রেফতার, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল।

২০২১ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ৬৪ বছর বয়সী হিচিলেমার এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১৩ জন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মুন্দুবিলে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন মওয়াঙ্গালা জালৌমিস জানান, মুন্দুবিলে প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২২৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে পাঁচটির ফল তখনো গণনা বাকি ছিল। তবে বাকি ফলাফল সামগ্রিক ফলাফলে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে জানান তিনি।

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর হিচিলেমা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখায় আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’ যারা তাকে ভোট দেননি, তাদের জন্যও কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

ফল ঘোষণার পর হিচিলেমার দল ইউনাইটেড পার্টি ফর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউপিএনডি) শত শত সমর্থক রাজধানী লুসাকার রাস্তায় নেমে বিজয় উদ্‌যাপন করেন। লাল পোশাক পরা সমর্থকেরা গান ও নাচের পাশাপাশি আতশবাজি ফোটান।

ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ
ফল ঘোষণার আগেই ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন মুন্দুবিলে। সোমবার তিনি দাবি করেন, ভোট গণনার সময় অনিয়ম হয়েছে। কোনো প্রমাণ না দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের ফলাফলসংক্রান্ত কিছু নথিতে কারসাজি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মুন্দুবিলে আরো অভিযোগ করেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের কর্মকর্তাদের ভোটের সংখ্যা পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকার তার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে মুন্দুবিলের দল ন্যাশনাল রিফর্ম পার্টির (এনআরপিইউপি) সদস্যদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছে সরকার। দলটি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

বিরোধী নেতাকর্মী গ্রেফতার
গত রোববার রাতে জাম্বিয়া সরকার জানায়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিরোধী দলের নেতা-কর্মী। সরকারের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সশস্ত্র বিদ্রোহে ব্যবহারের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

মুন্দুবিলের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনআরপিইউপি। দলটির দাবি, অভিযানের সময় গুলি ছোড়া হয় এবং একজন সংসদ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।

সরকারের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে দলটি বলেছে, তাদের কোনো নেতা বা কর্মী বিদ্রোহ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা কিংবা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।

ছয় ঘণ্টা ভোট গণনা বন্ধ
গত শুক্রবার ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের ওপর হামলা ও ব্যালট পেপার চুরির অভিযোগের পর প্রায় ছয় ঘণ্টা ভোট গণনা বন্ধ ছিল। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে জানিয়ে আবার ভোট গণনা শুরু করে কমিশন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছে, ভোট গণনা স্থগিতের ঘটনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভোটারদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতি নিয়ে মিশ্র মূল্যায়ন
হিচিলেমার প্রথম পাঁচ বছরের শাসনামলের মূল্যায়ন হিসেবেও এবারের নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল। তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে ঋণ পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ সময়ে দেশটির অর্থনীতিও আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে।

তবে সমালোচকদের দাবি, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল এখনো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যথেষ্ট প্রতিফলিত হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জাম্বিয়ার প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের ৭০ শতাংশের বেশি দৈনিক ৩ ডলারের কম আয় দিয়ে জীবনযাপন করে।

আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী দেশ জাম্বিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৯১ সালে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফেরার পর দেশটিতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স, আল জাজিরা