আগামী বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে তীব্র অনাহারে পড়তে পারে আরো প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ।
প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত ধেয়ে আসা ক্ষতিকর আবহাওয়া চক্র 'এল নিনো'র প্রভাবেই এই ভয়াবহ আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বরাতে এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে কয়েক বছরের ধারাবাহিক খরা এবং ইরান সংঘাতের কারণে এমনিতেই খাদ্যের দাম বেড়েছে। এতে শত কোটি মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে। তার সাথে নতুন করে যোগ হচ্ছে এল নিনোর আঘাত। ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী এল নিনো যদি প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম শক্তিশালীও হয়, তা-ও বর্তমানে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা ৪৫টি দেশের ২২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের তালিকায় আরো এক-পঞ্চমাংশের বেশি নতুন মানুষ যোগ হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা স্থানীয় কৃষি ও কৃষকদের চরম বিপদে ফেলবে।
প্রশান্ত মহাসাগরে কয়েক বছর পরপর তৈরি হওয়া এল নিনো বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন বদলে দেয়। গত অন্তত ৭০ বছরের মধ্যে এবারের এল নিনো সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে যাচ্ছে। অনেকে একে 'সুপার এল নিনো' বলেও ডাকছেন। তবে নিশ্চিত বিষয়টি হলো, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের কারণে এর তীব্রতা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে মিশে এই এল নিনো চলতি বছর বা ২০২৭ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত বছর বানিয়ে তুলতে পারে।
ডব্লিউএফপি এই দুর্যোগ সামাল দিতে এবং ক্ষতি কমাতে পূর্বাভাসভিত্তিক ত্রাণ তৎপরতার জন্য ৮ কোটি ডলারের বাজেট রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমার কারণে তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হওয়ায় তাদের কাজে কিছুটা সংকট তৈরি হচ্ছে।
এর আগে ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর সময় ৬ থেকে ১০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছিল। ডব্লিউএফপি ধারণা করছে, বড় খাদ্য রফতানিকারক দেশগুলো যদি রফতানি বন্ধ না করে, তবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কিছুটা সহজ হবে। কিন্তু ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে খাদ্যদ্রব্যের উর্ধ্বমুখী দাম এবং এল নিনোর যৌথ থাবায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।



