কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে গিলগিলের একটি বোর্ডিং স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, আগুনে আহত আরো ৭৪ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কেনিয়া রেড ক্রস ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উতুমিশি গার্লস স্কুলে বৃহস্পতিবার ভোররাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যখন শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানও চলছে। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে (জিএমটি রাত ১০টা) আগুন লাগে এবং প্রায় ২২০ জন শিক্ষার্থীর আবাসস্থল একটি ছাত্রাবাস ব্লক সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্কুলের বাইরে উপস্থিত অভিভাবক ও স্বজনদের উদ্দেশে পুলিশ কমান্ডার মাসুদ মউইনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা।”
তিনি আরো জানান, বিশৃঙ্খলার মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
“আমাদের টিম পুরো এলাকা তন্নতন্ন করে খুঁজছে, কারণ কিছু শিক্ষার্থী আতঙ্কে রাতেই পালিয়ে গিয়েছিল,” বলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং শুধুমাত্র অভিভাবকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের পরিস্থিতির কথা জানান। একজন অভিভাবক ওয়াম্বুই ন্দেরিতু বলেন, তার ভাইঝি ঘটনায় আহত হলেও বেঁচে গেছে।
তিনি জানান, “আমরা যখন স্কুলে পৌঁছাই, তখন লাইন ধরে দাঁড় করানো হয়। চারদিকে আতঙ্ক ছিল, আমরা শুনছিলাম কিছু শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং অনেকে আহত হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, আগুন থেকে বাঁচতে কিছু শিক্ষার্থীকে দোতলা থেকে লাফ দিতে হয়েছে, যার ফলে তারা আহত হয়।
“আমার ভাইঝি বেঁচে গেছে, তবে তার একটি পা ভেঙে গেছে,” বলেন তিনি।
সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স



