কঙ্গোতে নজিরবিহীন গতিতে ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃত্যু ১৯শ পার

এই ভাইরাস যে অস্বাভাবিক দ্রুতিতে ছড়াচ্ছে, তা আমরা আগে কখনো দেখিনি।'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইবোলা রোগীর সহায়তায় স্বাস্থ্যকর্মী
ইবোলা রোগীর সহায়তায় স্বাস্থ্যকর্মী |সংগৃহীত

কঙ্গোতে নজিরবিহীন গতিতে ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১,৯০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কঙ্গোলিজ ভাইরোলজিস্ট জ্যাঁ-জ্যাক মুযেম্ব সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলে ইবোলার এই বিস্তার আগে কখনো দেখা যায়নি।

গত ১৫ মে কঙ্গো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাদুর্ভাবের কথা স্বীকার করে। ফরাসি দৈনিক ল্য মঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ আগস্ট পর্যন্ত ৪,২০৯ জন শনাক্ত রোগীর মধ্যে ১,৯১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৮ সালে কঙ্গোয় রেকর্ড ২২ মাস স্থায়ী ইবোলা মহামারিতে ২,২৮৭ জন মারা যান। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি মৃতের সংখ্যার দিক থেকে সেই রেকর্ড ছুঁইছুঁই করছে।

১৯৭৬ সালে ইবোলা ভাইরাস যৌথভাবে আবিষ্কার করা মুযেম্ব জানান, ভাইরাসটি সম্ভবত জানুয়ারি মাস থেকেই ছড়াচ্ছিল। তবে এপ্রিল বা মে মাসের আগে তা ধরা পড়েনি। তিনি বলেন, 'এই ভাইরাস যে অস্বাভাবিক দ্রুতিতে ছড়াচ্ছে, তা আমরা আগে কখনো দেখিনি।'

তিনি এই পরিস্থিতির জন্য 'ধীর ও কার্যকরহীন' প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। মুযেম্ব জানান, নজরদারির দুর্বলতা, সমন্বয়হীনতা, সশস্ত্র সংঘাত এবং ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে খনি কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাদুর্ভাবটি আরো জটিল রূপ নিয়েছে। অনেক রোগী বাড়িতে অবস্থান করায় এবং শনাক্তের বাইরে থেকে যাওয়ায় সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কার কথা জানান। খুব অল্প সময়ে এই ভাইরাস তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চল থেকে ৫৩টি এবং তিনটি প্রদেশ থেকে পাঁচটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবটির পেছনে রয়েছে 'বুন্দিবুগিও' প্রজাতির ভাইরাস। এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো নিবন্ধিত প্রতিষেধক বা চিকিৎসা এখন পর্যন্ত নেই। তবে বুনিয়া ও মোংবয়ালুতে অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিভাইরাল পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞরা প্রাণীদের ওপর গবেষণার নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এরভেবো ভ্যাকসিনটি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর তা যাচাইয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জোর সুপারিশ করেছেন। 'এরভেবো' হচ্ছে বর্তমানে অনুমোদিত একমাত্র ইবোলা ভ্যাকসিন, তবে এটি মূলত 'জাইরে' প্রজাতির ইবোলার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: আনাদোলু