সুদানের দক্ষিণ করদোফানে গোলাবর্ষণ, শিশুসহ নিহত ৯

দক্ষিণ করদোফানের তাইতাল এলাকা থেকে কামানের গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছিল। পরে সুদানের সেনাবাহিনী সেখানে আক্রমণ করে এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের করদোফান প্রদেশের ডিলিং শহরে কামানের গোলাবর্ষণে তিন শিশুসহ নয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সুদানের একটি বেসরকারি সংস্থা দ্য নুবা মাউন্টেনস এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আব্দেলাজিজ আল-হিলুর নেতৃত্বে সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থ (এসপিএলএম-এন) বাহিনী এই গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মিত্র এবং তারা শহরের আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, দক্ষিণ করদোফানের তাইতাল এলাকা থেকে কামানের গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছিল। পরে সুদানের সেনাবাহিনী সেখানে আক্রমণ করে এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনী, এসপিএলএম-এন গোষ্ঠী বা তাদের মিত্র আরএসএফ কোনো পক্ষই এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, দক্ষিণ করদোফানের কাদুগলি ও ডিলিং শহর যুদ্ধের শুরু থেকেই আরএসএফ ও এসপিএলএম-এন গোষ্ঠীর অবরোধের মুখে রয়েছে। অর্থাৎ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং বারবার কামান ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

করদোফানের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ তিনটি রাজ্যে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র লড়াই চলছে। যার কারণে কয়েক হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

আরএসএফ সুদানের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমের দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যই নিয়ন্ত্রণ করছে। কেবল উত্তর দারফুরের কিছু উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা এখনো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনী পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলের অবশিষ্ট ১৩টি রাজ্যের অধিকাংশ এলাকাই নিজেদের দখলে রেখেছে। এর মধ্যে রাজধানী খার্তুমও রয়েছে।

সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি