আলোচনায় ফিরছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা খামেনিকে

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও ওমানের মাসকাটে পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে রাজি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানের মাসকাটে পরমাণু আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে আলোচনার আগমুহূর্তেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার (খামেনি) এখন ‘খুবই চিন্তিত’ হওয়া উচিত।

বুধবার দু’দেশের পক্ষ থেকেই মাসকাটে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে আলোচনার স্থান ও বিষয়বস্তু নিয়ে মতভেদের জেরে এই বৈঠক ভেস্তে যেতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছিল।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি।

বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে দু’দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার মাসকাটে বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, শুক্রবার মাসকাটে পরমাণু আলোচনার সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ায় তিনি ওমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তাও এএফপির কাছে বৈঠকের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে খবর ছড়িয়েছিল যে বৈঠকটি তুরস্কে হতে পারে। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানায়, ইরান আলোচনার স্থান পরিবর্তন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করায় যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে প্রায় সরে আসতে চেয়েছিল।

এদিকে এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলবো তার খুব চিন্তিত হওয়া উচিত।’

ট্রাম্প আরো দাবি করেন, গত জুনে ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানি পরমাণু স্থাপনায় হামলার পর তেহরান দেশের অন্য প্রান্তে নতুন একটি পারমাণবিক কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করছিল।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘আমরা সে বিষয়ে জেনে গেছি। আমি বলেছি, তোমরা যদি এমনটা করো, তবে তোমাদের জন্য খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।’

ইতোমধ্যেই একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছেন ট্রাম্প, যেটিকে তিনি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর বলে অভিহিত করছেন। গত মঙ্গলবার ওই বহরের একটি যুদ্ধবিমান ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর বিপরীতে ইরানও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার জন্য তৈরি, তবে একে অর্থবহ হতে হলে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অবশ্যই কথা বলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদত দেয়া এবং নিজ দেশের মানুষের সাথে সরকারের আচরণের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় থাকতে হবে।’

রুবিও আরো জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তুরস্কে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে দ্বিমুখী বার্তা আসায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

ইরান বরাবরই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তেহরানের দাবি, ইসরাইলে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের আত্মরক্ষার হাতিয়ার।

তবে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং গত বছর ইসরাইলি বোমা হামলার কারণে ইরান বেশ চাপে রয়েছে।

এছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহর শক্তি ক্ষয় এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের ফলে আঞ্চলিক মিত্র হারিয়ে তেহরান এখন অনেকটা কোণঠাসা।

সূত্র : বিবিসি