গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

এসমাইলপুর মোসাদের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ‘নাশকতামূলক অভিযান’ চালাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে তিনি সরঞ্জাম কেনেন এবং বিস্ফোরকবোঝাই যানবাহন স্থানান্তরের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরান
ইরান |সংগৃহীত

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হামিদরেজা সাবেত এসমাইলপুর নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির বিচার বিভাগ এই তথ্য জানিয়েছে।

বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজান জানায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে গ্রেফতার হওয়া হামিদরেজা সাবেত এসমাইলপুরের মৃতুদণ্ড আজ ভোরে কার্যকর করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোসাদের এক অ্যাজেন্টের কাছে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

বার্তাসংস্থা এএফপি এমন খবর জানিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা মিজান জানায়, এসমাইলপুর মোসাদের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ‘নাশকতামূলক অভিযান’ চালাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে তিনি সরঞ্জাম কেনেন এবং বিস্ফোরকবোঝাই যানবাহন স্থানান্তরের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ওইদিন আলি আরদেস্তানী নামের এক ব্যক্তিকে মোসাদের কাছে তথ্য দেয়ার দায়ে মৃতুদণ্ড দেয়া হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, গত বছরের জুনে ইরান-ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর একই অভিযোগে অন্তত ১২ জনকে মৃতুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সংগঠনগুলো আরো উদ্বেগ জানিয়েছে যে, চলতি মাসে বিক্ষোভের সময় গ্রেফতার হওয়া অনেকেই মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।

বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হতে পারে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির উদ্বেগ থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দমন অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এনজিও ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে অন্তত দেড় হাজার জনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। যুদ্ধের পর ইসরাইলের সাথে সহযোগিতার সন্দেহে গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছে তেহরান।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চীনের পর ইরানই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ।

দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের অভিযোগ, ইসরাইল তাদের পরমাণু স্থাপনায় নাশকতা চালাচ্ছে এবং বিজ্ঞানীদের হত্যার সাথে জড়িত রয়েছে। তবে জুনের যুদ্ধ ইরানে ইসরাইলের গভীর গোয়েন্দা অনুপ্রবেশের চিত্র সামনে আনে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা জানিয়ে আসছে, নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নির্দোষ মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে, অথচ মাঠপর্যায়ে কাজ করা ইসরাইলি অ্যাজেন্টরা ধরা পড়ছে না।

সূত্র : বাসস