খামেনি

আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করলে তা আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে পরিণত হবে

তবে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো আছে বলে জানিয়েছে তেহরান। তারা এমন ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত; যা তাদের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা হ্রাস করার চেষ্টা করবে না।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি |সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করলে এটি একটি আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে পরিণত হবে।

রোববার (১ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হতে এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে ইরানকে বারবার হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বারবার হুমকির পরই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌ উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

খামেনি বলেন, ‘(ট্রাম্প) নিয়মিত বলেন যে তিনি জাহাজ এনেছেন। ইরানি জাতি এসব দেখে ভীত হবে না, ইরানি জনগণ এই হুমকিতে বিচলিত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দেশকে আক্রমণ করার উদ্যোগী নই এবং আমরা কোনো দেশকে আক্রমণ করতে চাই না। তবে যে কাউকে আক্রমণ বা হয়রানি করলে ইরানি জাতি তার বিরুদ্ধে কঠোর আঘাত হানবে।’

তবে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো আছে বলে জানিয়েছে তেহরান। তারা এমন ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত; যা তাদের প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা হ্রাস করার চেষ্টা করবে না।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী ও তিনটি উপকূলীয় যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপান্তরিত হয়েছিল ওই বিক্ষোভ। এখন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় তা কমে গেছে।

ইরানের সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ১১৭ জন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ রোববার জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সূত্র : রয়টার্স