ইস্তাম্বুলের গালাতা সেতুতে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রায় পাঁচ লাখ ২০ হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নববর্ষের দিন ভোরে হিউম্যানিটি অ্যালায়েন্স ও ন্যাশনাল উইল প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আনাদোলু অ্যাজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, ৪০০টিরও বেশি সিভিল সোসাইটি (নাগরিক সমাজ) সংগঠনের অংশগ্রহণে এবং তুর্কিশ ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের (টিইউজিভিএ) নেতৃত্বে সমাবেশ ও মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভের স্লোগান ছিল— ‘আমরা ভয় পাব না, আমরা নীরব থাকব না, আমরা ফিলিস্তিনকে ভুলব না।’
এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান।
এর আগে, ভোরে নামাজের পর ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন বড় মসজিদ যেমন— হাগিয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ, সুলতানাহমেত, ফাতিহ, সুলেমানিয়ে ও এমিনোনু নতুন মসজিদের সামনে মানুষজন জমায়েত হন। এ সময় ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানাতে অনেকেই তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে মসজিদের সামনে জড়ো হন।
হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সুলতানাহমেত স্কয়ারের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য গরম পানীয়ের ব্যবস্থাও করা হয়।
এরপর বিক্ষোভকারীরা পায়ে হেঁটে গালাতা সেতু অভিমুখে যাত্রা করেন। মিছিলে মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রোটোকলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরাও অংশ নেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়।
মূল প্রেস মঞ্চের পেছনের একটি ভবনে বিশাল একটি ব্যানার টাঙানো হয়, যেখানে ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট মরহুম নাজি আল-আলির তৈরি আইকনিক চরিত্র ‘হানজালা’র ছবি ছিল, যা ফিলিস্তিনি সংগ্রামের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীদের পরিবেশনাও ছিল। এর মধ্যে ছিলেন লেবানিজ-সুইডিশ গায়ক মাহের জাইন, তুর্কি শিল্পী এসাত কাবাকলি ও ব্যান্ড গ্রুপ ইউরুয়ুশ।
সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি



