শীঘ্রই গাজা নিয়ে ‘শান্তি পরিষদ’ ও ‘সরকার’ ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প : ইসরাইলি মিডিয়া

‘ইসরাইলের কোনো ইচ্ছাই নেই গাজার বাকি অংশ থেকে সরে যাওয়ার। এমন কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী তারা মেনে নেবে না, যা তাদের ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে। গাজায় বৈধ ফিলিস্তিনি শাসন প্রতিষ্ঠারও তাদের কোনো ইচ্ছা নেই। চাপ প্রয়োগ না করা হলে তারা এসব বিষয়ে অনড় থাকবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শীঘ্রই গাজা নিয়ে ‘শান্তি পরিষদ’ ও ‘সরকার’ ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প
শীঘ্রই গাজা নিয়ে ‘শান্তি পরিষদ’ ও ‘সরকার’ ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প |সংগৃহীত

ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের পরবর্তী ধাপে এগোতে চায় হোয়াইট হাউস। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দলের সাথে এ নিয়ে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরাইলের স্থানীয় গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে জানা গেছে, হোয়াইট হাউস জানুয়ারির শুরুতেই গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের ঘোষণা দিতে চায়।

এছাড়া ওই টেকনোক্র্যাট সরকারের কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি বহুজাতিক শান্তি পরিষদ এবং গাজার নিরাপত্তা দেখভালের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৯ জানুয়ারি দাভোস অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প নিজেই ওই শান্তি পরিষদের ঘোষণা দিতে পারেন, এমনকি তিনি এর নেতৃত্বও দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

একজন জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে চ্যানেল ১২ জানায়, নতুন টেকনোক্র্যাট সরকারের তত্ত্বাবধানে হামাসসহ অন্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে নভেম্বরে গৃহীত যুদ্ধবিরতি কাঠামোর অংশ হিসেবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ থাকলেও, বিষয়টি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।

তবে, চলতি মাসের শুরুতে হামাসের শীর্ষ নেতা খালেদ মাশাল বলেন, সংগঠনটি অস্ত্র ব্যবহারে সাময়িক স্থগিতাদেশে রাজি হতে পারে, তবে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণে নয়।

ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ সম্প্রতি ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এতে নতুন শান্তি পরিষদ গঠনের বিষয়টিও ছিল বলে ইসরাইলের গণমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু এসব পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে হামাস নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে এলো, যখন অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল একাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ১১ সপ্তাহের অস্ত্রবিরতির সময়েও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন গাজায় হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এতে অন্তত ৪০৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

এছাড়া ইসরাইল যুদ্ধবিরতির আওতায় প্রতিশ্রুত পূর্ণমাত্রার মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিয়েছে। এমনকি মাংস, দুগ্ধজাত খাবার ও শাকসবজির মতো জরুরি খাদ্যপণ্য প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে তারা।

মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ‘ইসরাইলি বাহিনী কখনোই গাজা ছাড়বে না’। যদিও যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।

চ্যানেল ১২ জানায়, যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরাইলের অবজ্ঞা ও বিলম্ব কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই মনে হচ্ছে ইসরাইল গাজা চুক্তি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবছে। বাস্তবায়ন এমনিতেই কঠিন, তার ওপর কখনো কখনো ইসরায়েল পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে।’

মার্কিন বা মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্পের প্রধান ও সাবেক ইসরাইলি সরকারি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি আলজাজিরাকে জানান, প্রবল আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া ইসরাইল গাজা থেকে পুরোপুরি সরে আসা বা সেখানে একটি বৈধ ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনে সম্মত হবে না।

লেভির ভাষায়, ‘ইসরাইলের কোনো ইচ্ছাই নেই গাজার বাকি অংশ থেকে সরে যাওয়ার। এমন কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী তারা মেনে নেবে না, যা তাদের ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে। গাজায় বৈধ ফিলিস্তিনি শাসন প্রতিষ্ঠারও তাদের কোনো ইচ্ছা নেই। চাপ প্রয়োগ না করা হলে তারা এসব বিষয়ে অনড় থাকবে।’

সূত্র : আলজাজিরা