মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি তেল রফতানি সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি। ফলে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে এবং তেলনির্ভর দেশগুলো উদ্বেগের মুখে পড়ছে।
মে মাসে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি দৈনিক ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছায়, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ। অঞ্চলটিতে আরো মার্কিন তেল আসার পথেও রয়েছে। জ্বালানি তথ্য প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, জুন মাসে দৈনিক প্রায় ২৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল এবং জুলাই মাসে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল এশিয়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত আগের তিন মাসে এশিয়া দৈনিক গড়ে ১৩ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল মার্কিন তেল আমদানি করেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান সরবরাহ দ্বিগুণেরও বেশি।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-জায়নবাদী আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন দেখা দেয়ার পরিপ্রক্ষিতে এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলো তেলের ঘাটতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তবে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকলেও দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ডের কারণে অঞ্চলটির অন্তত দৈনিক এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ এখনো বাজারে পৌঁছাতে পারছে না।
মে মাসে হরমুজ প্রণালী হয়ে এশিয়ায় দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পৌঁছায়। অথচ ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত আগের তিন মাসে এ পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৩৫ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল। ফলে এই রুট দিয়ে হারিয়ে যাওয়া তেলের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের অন্যান্য রফতানিকারকদের অতিরিক্ত সরবরাহের চেয়েও বেশি।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে এশিয়ার সমুদ্রপথে তেল আমদানি দৈনিক এক কোটি ৯৪৭ লাখ ব্যারেলে ওঠে, যা এপ্রিলের এক কোটি ৮৭০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় বেশি। তবে এটিও ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত আগের তিন মাসের দৈনিক গড় দুই কোটি ৪৮২ লাখ ব্যারেলের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ কম।
এর অর্থ, এশিয়ার বাজারে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি শোধনাগারগুলোর জন্য কঠিন সিদ্ধান্তের কারণ হয়ে উঠছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিক মজুত ও কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবহার করে এবং শোধনের হার কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। কিন্তু কতদিন এভাবে চলা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক ও স্থায়ীভাবে চলাচল পুনরুদ্ধার না হলে পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরো বাড়তে পারে। তখন চাহিদা কমাতে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশই এশিয়ায় যায়। ফলে সঙ্কট দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে এশিয়ার দেশগুলো। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সবার আগে সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্যের রেকর্ড রফতানির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত দ্রুত কমে যাওয়াও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তেল রফতানি নিয়ে বিরোধিতা বাড়তে পারে।
সূত্র : ইসনা



