দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরো বিপুলসংখ্যক কর্মী।
শনিবার (২১ মার্চ) মধ্যাঞ্চলীয় শহর ডেজনে অবস্থিত ওই কারখানার নিখোঁজদের খুঁজতে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা। দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ধসের ঝুঁকির কারণে শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কারখানার ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানায়, ঘটনাস্থলে মজুত থাকা সোডিয়ামের কারণেও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে আগুন লাগে। এ সময় কারখানায় প্রায় ১৭০ জন কর্মী ছিলেন। পরদিন শনিবার বিকেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জন মারা গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ২৫ জন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডে আরো ৩৪ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। এছাড়া এ ঘটনায় এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।’ তবে, আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
ইয়োনহাপের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্রেন থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। এ সময় আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উদ্ধার অভিযানে সব ধরনের জনবল ও সরঞ্জাম কাজে লাগাতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে। এছাড়া তিনি দেশের শ্রমিকদের জন্য উন্নত সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে কর্মস্থলে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যারিসেলের প্রধান নির্বাহীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় দক্ষিণ কোরিয়া।
২০২৪ সালে রাজধানী সিউলের দক্ষিণে হোয়াসংয়ের একটি লিথিয়াম ব্যাটারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন মারা যান। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন চীনা নাগরিক।
সূত্র : বাসস



