হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে জাতিসঙ্ঘের ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের উপসাগরীয় মিত্ররা।
বৃহস্পতিবার তারা জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানায়, ইরান যেন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়া বন্ধ করে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাসের চেষ্টা চলছে। তবে প্রস্তাবটি ভেটোর মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া এই প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার রাশিয়া সতর্ক করে জানায়, তারা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি আটকে দিতে প্রস্তুত।
জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বৃহস্পতিবার বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সঙ্কটের প্রভাব বৈশ্বিক।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু মৌলিক নীতিতে বিশ্বাস করি। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত রাখা।’
তিনি আরো বলেন, এটি এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের তৈরি খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও হুমকি বন্ধ করতে বলা হয়েছে। একইসাথে প্রস্তাবে আরো কয়েকটি কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে- ইরান যেন প্রণালী পারাপারের জন্য কোনো ধরনের টোল (ফি) আদায় না করে, তারা কোথায় সমুদ্র মাইন বসিয়েছে তা প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় একটি মানবিক করিডোর তৈরির সুযোগ দেয়, যাতে সারসহ জরুরি পণ্য পরিবহন করা যায়। বিশ্বজুড়ে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং সারের এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
জাতিসঙ্ঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই প্রস্তাবকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, এটি সঙ্কট সমাধানে কোনো সহায়তা করবে না।
তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবটি পাস হলে তা উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপ প্রয়োগ এবং বেআইনি কার্যকলাপকে বৈধতা দেয়ার একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
গত মার্চের মাঝামাঝি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করে, যেখানে ইরানকে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করতে বলা হয় এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণের নিন্দা জানানো হয়। ওই ভোটে রাশিয়া ও চীন বিরত ছিল।
এর আগে এপ্রিলের শুরুতে একই ইস্যুতে আরেকটি খসড়া প্রস্তাব আনা হয়, যেখানে দেশগুলোকে প্রতিরক্ষামূলকভাবে সহযোগিতা করে প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেটি রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়ে আটকে দেয়।



