জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংসদ ভেঙে দিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম নির্বাচনের পথ সুগম করেছেন।
শুক্রবার দেশটির সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেয়ার ঘোষণা পাঠ করেন। এ সময় আইনপ্রণেতারা ঐতিহ্যবাহী স্লোগান ‘বানজাই’ স্লোগান দেন।
৪৬৫ সদস্যের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেয়ার মধ্য দিয়ে আগামী মঙ্গলবার থেকে ১২ দিনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে।
গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আগাম নির্বাচন আহ্বানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তাকাইচি। গত অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তিনি প্রায় ৭০ শতাংশ জনসমর্থন অর্জন করেছেন।
নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমর্থন হারানো ক্ষমতাসীন দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে চান তাকাইচি। তবে তার নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি)-এর জোট নিম্নকক্ষে খুব সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।
ত্সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোতো বলেন, “তাকাইচি সরকারের প্রতি জনসমর্থন থাকলেও তা এলডিপির ভোটে রূপ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।” তিনি জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, নির্বাচনে ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলা এবং চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির মন্তব্যের পর জাপান ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। এর জেরে বেইজিং টোকিওর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে খাদ্যপণ্যের ওপর ভোগকর বাতিলের প্রস্তাব তুলেছে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় শিবিরই।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পতনের পেছনেও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছিল। শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা যায়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকির কারণে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরের ৩ শতাংশের তুলনায় কম হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।
চালের দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় ডিসেম্বরে চালের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশের বেশি।
দীর্ঘদিন ধরে জাপানের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এলডিপির বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক পার্টি (সিডিপি) নতুন জোট গড়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
সূত্র: আল জাজিরা।



