কঙ্গোতে কোলটান খনিধসে নিহত ২ শতাধিক

‘ওই ভূমিধসে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে খনি শ্রমিক, শিশু ও বাজারে কাজ করা নারীরাও রয়েছেন। এ সময় কিছু লোককে সময়মতো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তারা গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। প্রায় ২০ জন আহত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কোলটান খনিতে কাজ করছেন একজন শ্রমিক
কোলটান খনিতে কাজ করছেন একজন শ্রমিক |সংগৃহীত

মধ্য-আফ্রিকান রাষ্ট্র ডিআর কঙ্গোর (ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলের রুবায়া কোলটান খনি ধসে এই সপ্তাহে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওই প্রদেশের বিদ্রোহীদের নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুয়িসা এই তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রুবায়া বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান উৎপাদন করে, যা প্রক্রিয়াজাত করে তাপ-প্রতিরোধী ধাতু ট্যান্টালাম তৈরি করা হয়। আর এই ট্যান্টালাম মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশ যন্ত্রাংশ ও গ্যাস টারবাইন নির্মাতাদের কাছে উচ্চ চাহিদার একটি উপাদান।

স্থানীয়রা প্রতিদিন কয়েক ডলারের বিনিময়ে কোলটান খনি ম্যানুয়ালি খনন করেন। এই স্থানটি ২০২৪ সাল থেকে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ওই ধসের ঘটনা ঘটে এবং গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের সঠিক সংখ্যা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুয়িসা বলেন, ‘ওই ভূমিধসে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে খনি শ্রমিক, শিশু ও বাজারে কাজ করা নারীরাও রয়েছেন। এ সময় কিছু লোককে সময়মতো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তারা গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। প্রায় ২০ জন আহত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশে এখন বর্ষাকাল চলছে। মাটি অত্যন্ত ভঙ্গুর। হতাহতরা খনির ভেতরে থাকা অবস্থায় ধসের ঘটনা ঘটে।

প্রদেশের গভর্নরের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ২২৭ জন। গণমাধ্যমে ব্রিফ করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওই উপদেষ্টা।

জাতিসঙ্ঘ বলছে, এএফসি/এম২৩ প্রতিবেশী রুয়ান্ডা সরকারের সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তারা নিজেদের তহবিল সংগ্রহের জন্য রুবায়ার সম্পদ লুণ্ঠন করছে। যদিও রুয়ান্ডা সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারী অস্ত্রধারী ওই বিদ্রোহীদের ঘোষিত লক্ষ্য, কিনশাসার সরকার উৎখাত করা এবং কঙ্গোর তুতসি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গত বছর এক আকস্মিক অভিযানে পূর্ব কঙ্গোর আরো কিছু খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চল দখল করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

সূত্র : রয়টার্স