মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান এআই আসছে! জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন

এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব হবে মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি সাধারণ কোনো প্রযুক্তিগত আবিষ্কার নয়, এমনকি ইন্টারনেট বা মোবাইলের সাথেও এর তুলনা চলে না। এর প্রভাব হবে শিল্প বিপ্লবের চেয়েও দশ গুণ দ্রুত এবং দশ গুণ বেশি শক্তিশালী।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডেমিস হাসাবিস
ডেমিস হাসাবিস |সংগৃহীত

প্রযুক্তির নতুন জোয়ার নাকি ঘোর বিপদ?

মানুষের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। আর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছুঁয়ে ফেলবে কিংবা ছাড়িয়ে যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’। গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ও নোবেলজয়ী ডেমিস হাসাবিস তার নিজের ব্লগে এমনটাই দাবি করেছেন। এ জন্য এখনি জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমকক্ষ এই এআই ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘এজিআই’ (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স)। হাসাবিস সতর্ক করেছেন যে, এজিআই আসার আগে মানুষের হাতে খুব কম সময় আছে এবং এটি যেন মানবজাতির কল্যাণে কাজ করে, তার জন্য এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এর আগে জুনে তিনি আভাস দিয়েছিলেন, এজিআই আসতে আর মাত্র ৩-৪ বছর বাকি।

বৈশ্বিক নজরদারি সংস্থার প্রস্তাব

হাসাবিস যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বৈশ্বিক নজরদারি সংস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমানে এআই নিয়ে কর্পোরেশন ও দেশগুলোর মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে আসল ঝুঁকিগুলোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না। সাইবার নিরাপত্তা ছাড়াও ভবিষ্যতে পারমাণবিক এবং জৈবিক ঝুঁকির মতো বড় হুমকি সামনে আসতে পারে। ওয়াল স্ট্রিটের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিনরা (এফআইএনআরএ)-র আদলে এই নতুন সংস্থা গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এআই খাতের শীর্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই সংস্থা গঠিত হবে এবং এর তহবিল আসবে এআই শিল্প থেকেই। কোনো এআই মডেল বাজারে ছাড়ার ৩০ দিন আগে ডেভেলপাররা তা পরীক্ষার জন্য জমা দেবেন। শুরুতে এটি স্বেচ্ছায় হলেও পরে তা বাধ্যতামূলক করা হবে।

কী হতে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ?

এআই প্রযুক্তি এখন নিজের বুদ্ধিমত্তায় নিজেই নিজেকে উন্নত করতে পারছে, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন এক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর গবেষণাতেও এই আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। হাসাবিস মনে করেন, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে শক্তিশালী হওয়ায় এই বৈশ্বিক নিয়ম চালুর ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রই নিতে পারে।

হাসাবিসের মতে, এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব হবে মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি সাধারণ কোনো প্রযুক্তিগত আবিষ্কার নয়, এমনকি ইন্টারনেট বা মোবাইলের সাথেও এর তুলনা চলে না। এর প্রভাব হবে শিল্প বিপ্লবের চেয়েও দশ গুণ দ্রুত এবং দশ গুণ বেশি শক্তিশালী। বিষয়টিকে বিদ্যুৎ কিংবা আগুন আবিষ্কারের সাথে তুলনা করে তিনি এক বিস্ময়কর সত্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কম্পিউটারের সিলিকন চিপ মূলত বালু থেকে তৈরি; আর আমরা আসলে সেই ‘বালুকে চিন্তা করতে শিখিয়েছি’—যা এক পরম অলৌকিক ঘটনা। এই প্রযুক্তির ঝুঁকিগুলো যদি এখনই রুখে দেওয়া যায়, তবে তা মানবসভ্যতাকে এক নতুন স্বর্ণযুগে নিয়ে যাবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরি কিংবা উন্নত নতুন উপাদান তৈরিতে এআই রাখবে অবিশ্বাস্য ভূমিকা।

এমনকি একসময় মানুষের অগ্রযাত্রার পথে সম্পদের সীমাবদ্ধতাও ঘুচে যেতে পারে। হাসাবিস স্পষ্ট মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যৎ এখনো লেখা হয়নি; এখন মানুষের যৌথ সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে সভ্যতার পরবর্তী ধাপ কেমন হবে।

সূত্র: এনডিটিভি