বিশ্বজুড়ে সঙ্ঘাত ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে গত এক বছরে অন্তত ৩৫০ জন দাতব্যকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় একটি অংশ গাজা ও সুদানে প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করে দাতব্যকর্মীদের ওপর হামলাকে ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছে।
বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের জরিপের বরাত দিয়ে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ওসিএইচএ। তবে ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছিলেন।
ওসিএইচএ জানিয়েছে, টানা তৃতীয় বছরের মতো দাতব্যকর্মীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ছিল গাজা। গত এক বছরে সেখানে প্রায় ১৮৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন আফ্রিকার দেশ সুদানে।
জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার বলেন, মাত্র তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, শুধু নিন্দা জানিয়ে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা এসব নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এদিকে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৩৯ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওসিএইচএ।
সঙ্ঘাতপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র ড্রোনের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, এসব ড্রোন প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং শহর ও জনবসতিতে ধ্বংসাত্মক হামলার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সুদানের পরিস্থিতি তুলে ধরে ওসিএইচএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে দেশটিতে ড্রোন হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব হামলায় হাটবাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ড্রোন হামলায় প্রাণহানির বিষয়টি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
টম ফ্লেচার বলেন, সশস্ত্র ড্রোন পুরোনো এক বিপদের নতুন রূপ—সাধারণ মানুষের জীবন ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়া হামলায় ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
সূত্র: এএফপি



