মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘পারমাণবিক কর্মসূচিতে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে তেহরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় কঠোর চাপ অব্যাহত থাকবে।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে শিগগিরই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে হবে।’
পোস্টটির সাথে একটি ব্যঙ্গচিত্রও যুক্ত ছিল। যেখানে ট্রাম্পকে অস্ত্র হাতে মরুভূমিতে বিস্ফোরণের সামনে দেখা যায় এবং সেখানে লেখা, ‘আর কোনো মিস্টার নাইস গাই নয়’।
দুই মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। এই জলপথ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই অবরোধের ফলে ইরানের নিজস্ব অর্থনীতিও মারাত্মক চাপে পড়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয় ছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখে দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি গুটিয়ে নিতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসসহ এক নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে সামরিকভাবে পরাজিত করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।’
অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে মনে করি না এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই।’
তিনি আরো দাবি করেন, ‘ভবিষ্যতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের কাছে এখনো ব্যবহৃত হয়নি এমন নতুন কৌশল ও সক্ষমতা রয়েছে।’
এদিকে কাতার সতর্ক করে বলেছে, চূড়ান্ত সমাধান না হলে অঞ্চলটি দীর্ঘমেয়াদি সঙ্ঘাতে পরিণত হতে পারে।
এদিকে অর্থনৈতিক চাপের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয়ভাবেও চাপে রয়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অসন্তোষ বাড়ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনও এ পরিস্থিতিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ইউরোপীয় কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার কোনো কৌশল নেই।’ সেইসাথে বর্তমান যুদ্ধকে তিনি অন্তত অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র : বাসস



