বাংলাফ্যাক্ট

শিশু নিখোঁজ নিয়ে মহিলা পরিষদের ভুল তথ্য শনাক্ত

বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের তথ্যটি সঠিক নয়। শিশু নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৭ জন। ৪ হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি এমন তথ্যও সঠিক নয়, উদ্ধার না হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৮ জন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাফ্যাক্ট
বাংলাফ্যাক্ট |সংগৃহীত

শিশু নিখোঁজ নিয়ে মহিলা পরিষদের ‘৩১ হাজার শিশু নিখোঁজ’ তথ্যটি ভুল বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, শিশু নিখোঁজ নিয়ে মহিলা পরিষদের ‘৩১ হাজার শিশু নিখোঁজ’ তথ্যটি ভুল।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ‘রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় থানায় ৩১ হাজারের বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে এখনো ৪ হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিবৃতিতে বলেছে, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১ হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের তথ্যটি সঠিক নয়। শিশু নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৭১৭ জন। ৪ হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান মেলেনি এমন তথ্যও সঠিক নয়, উদ্ধার না হওয়া শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৮ জন।

এই বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তাদের বক্তব্যে জানায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ জিডি হয়েছে ৪৭৪, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন, উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩, উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন, উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। আলোচ্য সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজের শতকরা ১৩ ভাগ।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, যেভাবে ভুল করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তা হলো- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, ‘শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।’

এটা ছিল শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী এবং ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের মোট তথ্যের হিসাব। এটাকে তারা শুধু শূন্য থেকে নয় বছর বয়সীর তথ্য বলে ভুল উপস্থাপন করেছে। প্রকৃতপক্ষে, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪টি, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন।

আবার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আলাদা করে বলেছে, ‘১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ২৪৩টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১ হাজার ৯৭০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

এটি মূলত ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের তথ্যের হিসাব। এর সাথে তারা আবার মোট হিসাব যোগ করে ৩১ হাজার শিশু নিখোঁজের ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।

‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট। সূত্র : বাসস