মাদারীপুরের পুত্রবধূ হলেন টিভি উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা
বিয়ের আসরে দীপ্তি চৌধুরী
বিয়ের আসরে দীপ্তি চৌধুরী |সংগৃহীত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ছেলে ড. মুশতাক ইবনে আইয়ুবকে বিয়ে করেছেন টিভি উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া দীপ্তি চৌধুরী।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মহরদ্দিরচর গ্রামে মুশতাকের জন্ম। চার ভাইয়ের মধ্যে মুশতাক সবার ছোট। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, গবেষক। তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনকোলজি বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।

দীপ্তি চৌধুরী নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দীপ্তি চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমাদের আকদ সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে বড় পরিসরে ধুমধাম আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। যেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আমাদের নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।’

বিয়ের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন দীপ্তি চৌধুরী। সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দর্শকরা সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন।

বিয়ে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল আই’র কর্ণধার ফরিদুর রেজা সাগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: রইছ উদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রো-ভিসি, সাবেক সচিব কবি রাম চন্দ্র দাস, টিভি ব্যক্তিত্বরা, কবি আমিরুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, উপস্থাপক ও গণমাধ্যমকর্মী দীপ্তি চৌধুরী বাংলাদেশের এক মেধাবী তরুণীর নাম। ২০১৬ সালে স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত হয়ে দেশব্যাপী কিশোর-কিশোরীদের জন্য কাজ শুরু করেন। এরপর আর ঘুরে তাকাননি। নির্বাচিত হয়েছেন বছরের সেরা স্বর্ণকিশোরী। রোহিঙ্গা কিশোরীদের সাথে কাজ করা থেকে শুরু করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পুষ্টি সমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা- সব জায়গায় দেখাচ্ছেন সমান দক্ষতা। জাতিসঙ্ঘ ফুড সিস্টেম সামিট ২০২১-এ তরুণ প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাদ্যব্যবস্থা বিষয়ক গ্লোবাল ক্যাম্পেইন Act4Food Act4 Change-কে। বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের কাছে ভরসা আর সাহসের নাম ‘দীপ্তি চৌধুরী’। স্বপ্ন দেখেন বাল্যবিয়েমুক্ত, পুষ্টি স্বনির্ভর, সুস্থ ও নিরাপদ কৈশোরের বাংলাদেশ। ছোটবেলা থেকেই কবিতা আবৃত্তি, বক্তৃতা, বিতর্ক, উপস্থাপনায় অসাধারণ পারদর্শিতার জন্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। পরপর দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী : বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অর্জন করেছেন নানা পুরস্কার। ছোটবেলা থেকেই শুধু একা নয়, সকলকে নিয়ে ভালো থাকতে ভালোবাসেন এই উজ্জ্বল তরুণী।

দীপ্তি চৌধুরীর বাবার নাম শিবলী চৌধুরী। মা দিপালী চৌধুরী। তার দাদার নাম নুরুল ইসলাম চৌধুরী, তিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নুরুল ইসলাম চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। নুরুল ইসলাম চৌধুরীর বোনের কোনো সন্তান না থাকায় তার কাছেই বেড়ে ওঠেন দীপ্তি চৌধুরীর বাবা শিবলী চৌধুরী। পরে বোনের পরিবার শিবলী চৌধুরীকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে চলে আসেন এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ২০০৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন দীপ্তি চৌধুরী। তিনি হলিক্রস কলেজ থেকে ২০২১ সালে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ২০২১ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত কিশোর বয়সীদের নিয়ে তার লেখা উদ্দীপনাময় ও দিক-নির্দেশনামূলক বই ‘দীপ্ত কৈশোর’ চারদিকে হইচই ফেলে দেয়।