নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই

গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আতাউর রহমান
আতাউর রহমান |সংগৃহীত

দেশের খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাতে মৃত্যু হয় তার।

তার বয়স এই জুনে ৮৫ বছর পূর্ণ হতো।

জানা গেছে, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা ওই মুহূর্তে না পাওয়ায় পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিনই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

তার স্ত্রী এবং এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছেন।

আতাউর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য লাশ শহীদ মিনারে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাত সোয়া একটা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত হয়নি। তবে বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে সমাহিত করা হবে এটা চূড়ান্ত হয়েছে। আপাতত বাদ জোহর দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেয়া এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা আতাউর রহমান নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকটির মাধ্যমে নাট্য নির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমান’- এর মতো নাটকগুলোও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষকতার পাশাপাশি ‘প্রজাপতি নিবন্ধ’, ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’, ‘নাটক করতে হলে’, ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’, ‘লেখনী’সহ নানা বই প্রকাশ করেছেন। অভিনয় করেছেন বেশ কিছু টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে।

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আফ্রো-এশিয় গণসংহতি পরিষদের সাবেক সদস্য আতাউর রহমান বাংলাদেশ নাটকের আপিল কমিটি ও চলচ্চিত্র জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ শাখার পরে বিশ্বশাখার সভাপতিও ছিলেন এই নাট্যব্যক্তিত্ব।

দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আতাউর রহমান পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।