- ফারজানা খাতুন
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে আয়োজিত হতে যাচ্ছে 'ইরান সাংস্কৃতিক সপ্তাহ'। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের পাশাপাশি এবার এ উৎসবের আয়োজক শহরের তালিকায় যুক্ত হয়েছে তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কাজান।
সম্প্রতি মস্কোয় অবস্থিত 'রাশিয়ান স্টেট লাইব্রেরি' পরিদর্শনের সময় রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই ঘোষণা দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কেবল মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গেই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। তবে কাজান শহরটিকে ২০২৬ সালের জন্য 'ইসলামী বিশ্বের সাংস্কৃতিক রাজধানী' হিসেবে নির্বাচন করায় এটিকে নতুন ভেন্যু হিসেবে যুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে সফলভাবে অনুষ্ঠিত 'রাশিয়া সাংস্কৃতিক সপ্তাহ'-এর ধারাবাহিকতায় এই উৎসবটি আয়োজিত হতে যাচ্ছে। যদিও অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, "ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা হয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন এই সম্পর্কের একটি বস্তুনিষ্ঠ ও ভারসাম্যপূর্ণ ইতিহাস তুলে ধরতে দুই দেশের গবেষকদের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন।"
এ লক্ষ্যে তিনি উভয় দেশের সংগ্রহশালার (আর্কাইভ) নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে একটি যৌথ গবেষণা টিম বা 'ওয়ার্কিং গ্রুপ' গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবিত এই উদ্যোগটি মস্কোয় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সাংস্কৃতিক বিভাগ এবং রাশিয়ান স্টেট লাইব্রেরি যৌথভাবে পরিচালনা করবে।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জালালি বলেন, একটি প্রাচীন সভ্যতার সাথে কখনো শক্তির ভাষায় কথা বলা যায় না। তিনি কঠিন সময়ে ইরানের পাশে থাকার জন্য রাশিয়ার সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে, রাশিয়ান স্টেট লাইব্রেরির মহাপরিচালক ভাদিম দুদা ইরানি জনগণের সহনশীলতার প্রশংসা করে বলেন, রাশিয়া ও ইরান যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করেছে। পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে আলোচনার আহ্বান জানানো এবং অন্যদিকে সামরিক হামলা চালানো পশ্চিমাদের চরম দ্বিমুখী নীতিকে স্পষ্ট করে।
বৈঠক শেষে ইরানি রাষ্ট্রদূত লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত কবি নিজামী গাঞ্জাভীর 'দেওয়ান'-সহ বিভিন্ন বিরল ফার্সি পাণ্ডুলিপি ঘুরে দেখেন। এসব ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপির ডিজিটাইজেশন এবং সংরক্ষণে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতার ওপর তিনি জোর দেন।
উল্লেখ্য, ১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত 'রাশিয়ান স্টেট লাইব্রেরি' রাশিয়া ও ইউরোপের সবচেয়ে বড় পাবলিক লাইব্রেরি। প্রায় ২০ কোটি বই ও বিরল নথি সমৃদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক গবেষণা ও তথ্যসংগ্রহের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
লেখক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।



