মাটির গন্ধ, নদীর ঢেউ আর মায়ের মুখ—এই তিনের টানেই বেঁচে থাকে বাঙালির হৃদয়। সেই হৃদয়ের গভীরতম আর্তি, অদেখা অশ্রু আর না-বলা কথার সুর নিয়েই বাংলা লোকগানের দল ‘বাউলা’ নিয়ে এলো তাদের নতুন গান— ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গানটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের পরপরই দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে গানটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসীদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে—গানটি যেন তাদের মনের কথাই বলেছে। ‘বাউলা’ বিশ্বাস করে, লোকগান কেবল বিনোদন নয়; এটি শেকড়ের সাথে আত্মার সংযোগ। ‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’ সেই সংযোগেরই এক মর্মস্পর্শী সেতুবন্ধন—যেখানে প্রবাসের দূরত্ব পেরিয়ে সন্তানের কণ্ঠ পৌঁছে যায় মায়ের হৃদয়ে।
দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ভক্ত-শ্রোতার ভালোবাসায় সিক্ত ‘বাউলা’। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী ভক্তদের অনুরোধ ছিল—তাদের মনের কথা, তাদের না বলা অনুভূতি যেন একটি গানে ধরা পড়ে। সেই আবেগ, সেই অপেক্ষা ও দুই বছরের নিরন্তর ভাবনা-চিন্তার ফসল এই গান।
‘বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা মা’ কেবল একটি গান নয়; এটি প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গ সন্ধ্যা, ভিডিও কলে মায়ের মুখ দেখে চুপচাপ চোখ মুছে নেয়া এক সন্তানের গল্প। এটি ব্যস্ত নগরীর কোলাহলে দাঁড়িয়ে গ্রামের শিউলি-ঝরা ভোরকে মনে করার আকুতি। গানটির কথা লিখেছেন ও সুরারোপ করেছেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক সাইফুল ইসলাম মান্নু। তার কথায় ধরা পড়েছে প্রবাস জীবনের টানাপোড়েন, আর সুরে মিলেছে লোকজ আবেগের গভীরতা।
গানটির প্রধান কণ্ঠ দিয়েছেন ‘বাউলা’ ব্যান্ডের অধিকর্তা প্রকাশ আর্টিস্ট। তার কণ্ঠে ভেসে ওঠে এক অভিমানী সন্তানের আর্তি—‘মা, বিদেশ আমার ভাল্লাগেনা।’ সংগীতে ছিলেন একদল দক্ষ শিল্পী—হারমোনিয়ামে রবিন সরকার, ঢোলে মাসুম ও সাঈদ আহম্মেদ, বাঁশিতে আশিকুল, গিটারে ইকে মজুমদার ইস্তি, বেইজ গিটারে অনুপ এবং পারকাশনে সোহেল। সংগীতায়োজন করেছেন রবিন সরকার ও ইকে মজুমদার ইস্তি। চিত্র পরিচালনায় ছিলেন রাইসুল ইসলাম অনিক, যিনি গানের আবেগকে দৃশ্যপটে রূপ দিয়েছেন মমতা ও মাটির রঙে।
প্রকাশ আর্টিস্ট বলেন, ‘এই গানটিতে আমরা প্রবাসীদের মনের ভেতরের না বলা কথাগুলো সুরে সুরে প্রকাশের চেষ্টা করেছি। প্রবাসীরা আমাদের দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি। তারা বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশের জন্য অর্থ পাঠান। তাদের শ্রমে উপকৃত হয় দেশ, উপকৃত হয় পরিবার ও সমাজ। কিন্তু তাদের বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট, নিঃসঙ্গতা আর মায়ের জন্য আকুলতা—সেই গল্প আমরা কতটুকু জানি? সেই অদেখা অনুভূতির ভাষাই আমরা এই গানে তুলে ধরেছি।’



