পরবর্তী সরকারের সামনে প্রধান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরলেন অর্থ উপদেষ্টা

‘ব্যবসা সম্প্রসারিত না হলে কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান ছাড়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল থেকে যাবে। এটি অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ |সংগৃহীত

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ পরবর্তী সরকারের সামনে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা সম্প্রসারিত না হলে কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান ছাড়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল থেকে যাবে। এটি অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ।’

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পরবর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যবসা ও শিল্পকারখানার কর্মকাণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করা। কারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি মূলত প্রাণবন্ত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করে।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের শিল্প ভিত্তি এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট এবং দেশটি রফতানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব শিল্প শক্তি বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো একটি উদ্বেগের বিষয় এবং এটি কেবল মুদ্রানীতি দিয়ে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। আমরা এটি সমাধানের চেষ্টা করেছি, তবে এর জন্য আরো ব্যাপক পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ খাতকে পুনর্গঠন করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তবে সামনে আরো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

অর্থ উপদেষ্টা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করলেও স্বীকার করেন যে এগুলো পর্যাপ্ত ছিল না। তিনি বলেন, ‘ঋণপ্রবাহ এখনো সীমিত এবং পুরোপুরি আস্থা ফিরে আসেনি, যদিও সম্প্রতি আমানত বাড়তে শুরু করেছে।’

ব্যবসায় অর্থায়নের জন্য ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে তিনি পুঁজিবাজার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করতে না পারি, তবে শুধু ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে না। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে ইকুইটি অংশগ্রহণ এবং একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের জন্য অপরিহার্য।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্কারের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এবং আদালত সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টা বিমা খাতকে আরেকটি সংবেদনশীল খাত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এ খাতের উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। প্রচেষ্টা চালানো হলেও অগ্রগতি এখনো সীমিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জ্বালানি খাতকে একটি বড় দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি আরো বলেন, ‘অফশোর এলাকাসহ আমাদের আরো বেশি খনন কার্যক্রম প্রয়োজন, একইসাথে সৌরশক্তির যতটুকু উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল, আমরা এখনো তা করতে পারিনি।’ বাসস