এনবিআর বিভাজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে অন্তর্বর্তী সরকার : অর্থ উপদেষ্টা

এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো, এনবিআরকে দু’টি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করা, একটি কর নীতি প্রণয়নের দায়িত্বে এবং অন্যটি কর আদায় ও প্রশাসনের দায়িত্বে। রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে উন্নয়ন সহযোগী, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের দীর্ঘদিনের সুপারিশ অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ |ইন্টারনেট

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে অন্তর্বর্তী সরকার।

তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে। এটি এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবে জানুয়ারি কিংবা ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আপনারা দেখতে পাবেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। মাত্র একটি ছোট বিষয় বাকি রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এটা হবে।’

আজ বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পৃথক দু’টি সভায় সভাপতিত্ব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা স্বীকার করেন যে পূর্বের আশ্বাস সত্ত্বেও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এনবিআর বিভাজন চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রক্রিয়াটি সঠিক পথেই রয়েছে এবং কেবল কিছু অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

সরকার নিজেই কি এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘নিশ্চয়ই’।

এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো, এনবিআরকে দু’টি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করা, একটি কর নীতি প্রণয়নের দায়িত্বে এবং অন্যটি কর আদায় ও প্রশাসনের দায়িত্বে। রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে উন্নয়ন সহযোগী, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের দীর্ঘদিনের সুপারিশ অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত দীর্ঘদিনের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দু’টি পৃথক বিভাগ-রাজস্ব নীতি বিভাগ (আরপিডি) ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আরএমডি) গঠন করা হয়।

কর নীতি প্রণয়নকে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম থেকে আলাদা করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার হিসেবে বর্ণনা করেছে সরকার।