এআইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ, আধুনিক ক্রয়ব্যবস্থায় যাচ্ছে টিসিবি

‘স্বাধীনতার পর থেকে টিসিবি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কথা বলেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কথা বলেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান |সংগৃহীত

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

একইসাথে ব্যয়ের প্রাক্কলন (কস্ট এস্টিমেট) আরো বাস্তবসম্মত করা, দরপত্রে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি সেবার কার্ডের সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘টিসিবির কার্যক্রম মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে টিসিবি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ব্যবস্থা আরো আধুনিক ও তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় অফিসিয়াল কস্ট এস্টিমেট ও চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে ব্যবধান যত কম হবে, ততই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও কস্ট নির্ধারণের দক্ষতা প্রতিফলিত হবে।’

এজন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার, প্রতিবেশী দেশের মূল্যপ্রবণতা এবং অতীতের বাজার তথ্য বিশ্লেষণ করে আরো নির্ভুল কস্ট এস্টিমেট প্রস্তুতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আতাউর রহমান খান বলেন, সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। এতে একদিকে যেমন একচেটিয়া প্রবণতা কমবে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

তিনি আরো জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি কনসেপ্ট নোট প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি, অর্থ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ বলেন, ‘টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডকে অন্যান্য সরকারি কার্ডের সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য পণ্যের বাস্কেটে আরো প্রয়োজনীয় পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি জানান, বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকায় মডেল স্টোর স্থাপন করা হবে। এছাড়া পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থা চালু হলে কার্ড স্ক্যানের মাধ্যমে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মূল্য পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে টিসিবির ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের সাথে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রির বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জানানো হয়, এসব অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক; ভোক্তাদের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

এছাড়াও টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর, ক্রয়ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা।

সূত্র : ইউএনবি